১২ বছর পর ‘মৃত’ স্ত্রী উদ্ধার, স্বামীসহ ৮ নিরপরাধের জেলবাসের পর খুলল রহস্য!

বিহারে সামনে এলো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। যে গৃহবধূকে ‘খুন’ করার অভিযোগে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকসহ মোট ৮ জন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জেল খাটছেন, সেই তথাকথিত ‘মৃত’ নারী এতদিন বহাল তবিয়তে বেঁচে ছিলেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে। বিহারের রোহতাস জেলার বলরতি বিঘা গ্রাম থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন সরস্বতী দেবী (ওরফে কান্তি দেবী)। নিখোঁজের কিছুদিনের মাথায় স্থানীয় একটি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার হয়। সরস্বতীর পরিবার ও এক স্থানীয় পাহারাদার ভুলবশত সেই মৃতদেহটিকে সরস্বতী দেবীর বলেই শনাক্ত করেন।
পরিবারের এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সরস্বতীর স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতা ও দেবরসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করে তাঁদের জেলে পাঠায়। যথারীতি সেই মৃতদেহের দাহকার্যও সম্পন্ন করা হয়।
দীর্ঘ ১২ বছর পর এক গোপন সূত্রে আসল সত্যিটা জানতে পারে রোহতাস পুলিশ। জানা যায়, সরস্বতী দেবী নাম বদলে ‘ক্রান্তি দেবী’ পরিচয়ে ঝাড়খণ্ডের গাড়োয়া জেলার কান্দি থানার একটি গ্রামে আত্মগোপন করে রয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই রোহতাস পুলিশ ঝাড়খণ্ড পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে এবং আদালতে পেশ করে।
১২ বছর আগে মায়ের ‘মৃত্যুর’ সময় যে ছেলের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর, আজ ২২ বছরে এসে জীবিত মাকে দেখে শক্ড পুরো পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ এখন দুটি বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে—প্রথমত, ১২ বছর আগে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত পরিচয় নারী আসলে কে ছিলেন? এবং দ্বিতীয়ত, ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশ ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে অভিযুক্ত সরস্বতী দেবীর বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।