আসানসোলে বাইক থামিয়ে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরীকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি!

আসানসোলে বাইক থামিয়ে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরীকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি!

আসানসোলে রাতের অন্ধকারে বাইক আটকে ছিনতাইয়ের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। বাধা দেওয়ায় এক নৈশপ্রহরীকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন হরিদাস লায়েক নামে এক স্কুলকর্মী। বর্তমানে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত হরিদাসবাবু আসানসোলের শ্রীহরি গ্লোবাল স্কুলের নৈশপ্রহরীর কাজ করেন। তাঁর বাড়ি সালানপুরের আল্লাডি পঞ্চায়েতের ধাগুড়ি গ্রামে। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার রাতেও বাইকে চড়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনি। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একটি নির্জন জায়গায় তাঁর পথ আটকায় কয়েকজন মুখোশধারী দুষ্কৃতী।

অস্ত্র দেখিয়ে হরিদাসের সর্বস্ব লুটের চেষ্টা করে তারা। কিন্তু ভয় না পেয়ে সাহসিকতার সঙ্গে দুষ্কৃতীদের বাধা দেন ওই যুবক। দুপক্ষের মধ্যে কিছু সময় হাতাহাতিও হয়। শেষ পর্যন্ত ওই যুবকের সঙ্গে পেরে না ওঠায় তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর দু’রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। হরিদাসের পায়ে গুলি লাগে। সেই অবস্থাতেও তিনি লড়াই চালিয়ে যান। এরপর স্থানীয়দের আওয়াজ বা প্রতিরোধের মুখে পড়ে হরিদাসবাবুকে রাস্তার মাঝেই ফেলে পালিয়ে যায় আক্রমণকারীরা।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সালানপুর থানার পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় হরিদাসকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রাতেই তাঁর পায়ে সফল অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা।

ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজের একটি খালি খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারে গোটা এলাকায় শুরু হয়েছে জোরদার তল্লাশি ও নাকা-চেকিং। পাশাপাশি, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার প্রণব কুমার, ডিসি (পশ্চিম) সানা আখতার এবং ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস-সহ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা। রাতের বেলায় জাতীয় সড়কের মতো এলাকায় এমন সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *