‘কোনও দলের অনুগত হয়ে থাকবেন না’, মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বড় বার্তা প্রশান্ত কিশোরের

‘কোনও দলের অনুগত হয়ে থাকবেন না’, মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বড় বার্তা প্রশান্ত কিশোরের

৩১ বছর ধরে বিজেপির দখলে থাকা বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র উপনির্বাচনে ছিনিয়ে নিয়েছে ‘জন সুরাজ’ পার্টি। এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে মুসলিম ভোটারদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার পাটনার সবজিবাগে সংখ্যালঘুদের একটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের অন্ধ অনুগত হয়ে না থেকে নিজেদের অধিকারের জন্য নিজেদেরই লড়াই করতে হবে।

সম্মেলনের শুরুতেই বাঁকিপুরের উপনির্বাচনে তাঁকে সমর্থন করার জন্য সংখ্যালঘু ভোটারদের ধন্যবাদ জানান প্রশান্ত। দীর্ঘ ২১ বছর ধরে অর্থাৎ ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসনটি বিজেপির কবজায় ছিল। পাঁচবারের বিধায়ক ও বিজেপি নেতা নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি খালি হলে উপনির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করেন প্রশান্ত কিশোর। এই জয়ের পর সংখ্যালঘুদের সঠিক প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐতিহ্যগতভাবে পাটনার মুসলিম ভোটারদের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি-র সমর্থক বলে পরিচিত। তবে সেই সমীকরণ বদলে প্রশান্তর দিকে সংখ্যালঘুদের ঝোঁক বাড়ছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে জোরালো করতেই প্রশান্ত বলেন, গণতন্ত্রে নিজেদের নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শুধু অন্যের অনুগত ভোটার হয়ে থাকলে চলবে না, বরং নিজেদের অধিকার ও প্রাপ্য আদায়ের জন্য সরাসরি ময়দানে নামতে হবে।

এর আগেও রাজনৈতিক কেরিয়ারে নানা সময়ে সংখ্যালঘু ইস্যুতে সরব হয়েছেন এই প্রাক্তন ভোটকুশলী। জেডিইউ-এর জাতীয় সহ-সভাপতি থাকাকালীন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর তীব্র বিরোধিতা করে দলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি, যার জেরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে ‘জন সুরাজ’ দল গঠন করে বিহারের রাজনীতিতে নিজের জমি শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

আসন্ন অক্টোবর মাসে বিহার বিধান পরিষদের আটটি আসনের উপনির্বাচন। এই সবকটি আসনেই নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেছে জন সুরাজ। অন্যদিকে, আরজেডি ইতিমধ্যেই তাদের ছয়জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এই প্রার্থী তালিকা নিয়েই এদিন তীব্র আক্রমণ শানান প্রশান্ত। তাঁর দাবি, আরজেডি যাঁদের টিকিট দিয়েছে, তাঁদের নাম শুনলে পুরোনো দলবদলুদের কথাই মনে পড়ে। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দলের নামী মুখ বাদ দিয়ে টাকা দিয়ে টিকিট কেনার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আরজেডি-র প্রকাশিত এই তালিকায় থাকা রশ্মি গৌতম ও তাঁর স্বামী ডা. বিনায়ক গৌতম অতীতে জন সুরাজের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *