স্ট্রোক কি শুধু বয়স্কদের? অল্প বয়সেও বাড়ছে মারাত্মক ঝুঁকি, কোন লক্ষণগুলি দেখলে সাবধান হবেন?

আগে ধারণা ছিল স্ট্রোক কেবল বয়স্কদেরই হয়, কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই চেনা সমীকরণ বদলে গেছে। বয়সের সীমা ছাড়িয়ে এখন অল্পবয়সিদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এই মারাত্মক রোগের কারণে শরীরের এক দিক সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে বা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক ঘটে, যার ফলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষগুলি নষ্ট হতে শুরু করে। তাই সময়মতো এর উপসর্গগুলি চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অল্পবয়সিদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং এর জেরে তৈরি হওয়া নানা শারীরিক সমস্যা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগ স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধা বা মস্তিষ্কের রক্তনালির অস্বাভাবিকতার মতো বিরল কারণও এর জন্য দায়ী থাকে।
অনেকেই অল্প বয়সে স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে নিছক ক্লান্তি, ডিহাইড্রেশন বা মাইগ্রেনের ব্যথা ভেবে ভুল করেন। কিন্তু এই ভুল ধারণা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। যে লক্ষণগুলি দেখলে এক মুহূর্তও দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত:
- মুখের একদিক ঝুলে যাওয়া: মুখের একপাশ অসাড় হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পড়া স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
- শরীরের একপাশে দুর্বলতা: হঠাৎ করে শরীরের একপাশে তীব্র দুর্বলতা বা অসাড় ভাব অনুভূত হওয়া।
- দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া: হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া, যা অনেকে প্রেশার বা সুগার ওঠানামা ভেবে এড়িয়ে যান।
- তীব্র মাথাব্যথা: কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ মাথায় তীব্র যন্ত্রণা শুরু হওয়া।
- ভারসাম্য হারাতে বসা: হঠাৎ হাঁটতে অসুবিধা হওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কেতগুলি দেখা মাত্রই কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।