২০৩০-এর মধ্যেই হারাবে ২০% ‘হোয়াইট কলার’ চাকরি! চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

২০৩০-এর মধ্যেই হারাবে ২০% ‘হোয়াইট কলার’ চাকরি! চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কি সভ্যতার আশীর্বাদ, নাকি বেকারত্বের নতুন অভিশাপ? দীর্ঘদিনের এই বিতর্কে এবার রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো তথ্য প্রকাশ করল ওপেনএআই-এর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ‘অ্যানথ্রপিক’-এর অর্থনৈতিক গবেষণা শাখা।

তাদের সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যেই উন্নত জেনারেটিভ এআই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি বা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনকে একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু এর জন্য চড়া মূল্য চোকাতে হবে শিক্ষিত পেশাদারদের। মুছে যেতে পারে আমেরিকার প্রতি ৫টি ‘হোয়াইট কলার’ বা কর্পোরেট চাকরির অন্তত একটি!

একনজরে দেখে নিন এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • মেধার কাজে এআই-এর রাজত্ব: আগামী কয়েক বছরে এআই কেবল সাধারণ কাজের গণ্ডিতে আটকে থাকবে না। কোডিং, আর্থিক বিশ্লেষণ, আইনি নথিপত্র তৈরি এবং কাস্টমার সার্ভিসের মতো জটিল ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলো মানুষের চেয়েও দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
  • অর্থনীতি বনাম কর্মসংস্থান: এআই-এর দৌলতে কর্পোরেট সংস্থাগুলোর উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা ঊর্ধ্বমুখী হবে, যা সরাসরি জিডিপি বাড়াতে সাহায্য করবে। কিন্তু এর উল্টো পিঠেই রয়েছে অন্ধকার—প্রায় ২০ শতাংশ অফিসভিত্তিক বা হোয়াইট কলার পদ চিরতরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে।
  • সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?: এতদিন প্রযুক্তির কারণে মূলত শারীরিক শ্রমের কাজ (ব্লু-কলার) বিপদে পড়ত। তবে এবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, জুনিয়র গবেষক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ব্যাক-অফিস অ্যানালিস্ট এবং কর্পোরেট পেশাদাররা।
  • বাড়বে বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা: অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও যদি বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারান, তবে সমাজে মারাত্মক আয়বৈষম্য দেখা দেবে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে গভীর সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
  • বাঁচার একমাত্র উপায় ‘রিস্কিলিং’: এই আসন্ন বিপর্যয় রুখতে সরকার ও কর্পোরেট জগৎকে একযোগে উদ্যোগী হতে হবে। এআই-এর যুগে টিকে থাকতে কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণ বা ‘রিস্কিলিং’-এর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন গবেষকরা।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির এই ঝোড়ো পরিবর্তনের সঙ্গে সময় থাকতে তাল মেলাতে না পারলে, আগামী দিনে এক ভয়াবহ বেকারত্ব ও আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *