রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি! ২৫টি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচার ভুয়ো ডাক্তারের, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
September 14, 20268:33 am

রাজ্যে ফের ভুয়ো চিকিৎসকের পর্দাফাঁস! রাতারাতি ল্যাব টেকনিশিয়ান থেকে রীতিমতো এমবিবিএস ডাক্তার সেজে একের পর এক জটিল অস্ত্রোপচার করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। শুধু বেসরকারি নার্সিংহোম নয়, সরকারি হাসপাতালেও জাল বিছিয়েছিল এই চক্র। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৫ জন এমন ভুয়ো চিকিৎসকের খোঁজ মিলেছে।
এই চাঞ্চল্যকর চক্রের মূল তথ্যগুলো একনজরে:
- নকল ডিগ্রির রমরমা: অভিযুক্তরা বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভুয়ো শংসাপত্র এবং জাল এমবিবিএস ডিগ্রির ওপর ভর করেই দিব্যি ডাক্তারি করছিলেন।
- সরকারি ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ: সবথেকে ভয়াবহ বিষয় হলো, অভিযুক্ত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। জালিয়াতির মাত্রা এতটাই গভীর যে, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বরও জোগাড় করে ফেলেছিলেন।
- রাজ্যজুড়ে বেআইনি প্র্যাকটিস: অভিযুক্তদের একজন পূর্ব বর্ধমানের অন্তত ২৫-২৬টি নার্সিংহোমে নিয়মিত অপারেশন করতেন। অপর একজন বারাসাতে আস্ত একটি নার্সিংহোম এবং নিউ টাউনে একটি ডার্মাটোলজি ক্লিনিক খুলে বসেছিলেন।
- কীভাবে প্রকাশ্যে এল এই জালিয়াতি? অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে সন্দেহজনক এই চিকিৎসকদের নাম বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলে যাচাই করতে পাঠান। সেখান থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই নামে সেখানে কোনো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশনই নেই।
২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলা এই জালিয়াতি সাধারণ রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠনটি। রোগীদের জীবন নিয়ে এমন মারাত্মক ছেলেখেলা প্রকাশ্যে আসার পর এখন স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।