শালবনি জমি দুর্নীতি: সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আপ্ত-সহায়কের অফিসে যেত টাকা, দাবি সিআইডির চার্জশিটে

শালবনি জমি দুর্নীতি: সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আপ্ত-সহায়কের অফিসে যেত টাকা, দাবি সিআইডির চার্জশিটে

শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড় এনেছে সিআইডি। মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, জমি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের অফিসে পাঠানো হতো। এই পুরো আর্থিক লেনদেন বা মানি ট্রেইলের নেপথ্যে প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ।

তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, সুজয় হাজরার চালক এবং দুই স্থানীয় ব্যবসায়ীর বয়ান রেকর্ড করেছে। ওই ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তাঁরা নিজেদের চোখেই সুজয় হাজরাকে সুমিত রায়ের হাতে নগদ টাকা হস্তান্তর করতে দেখেছেন। সিআইডির মতে, সুমিত রায়ের ক্ষমতার ভয়েই এতদিন প্রত্যক্ষদর্শীরা মুখ খুলতে ভয় পেয়েছিলেন।

২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চার বছর ধরে এই জমি জালিয়াতি চক্র সক্রিয় ছিল এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা বাতিল হওয়ার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ভবানী ভবনে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার তাঁকে কঠোর নিরাপত্তায় মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত ধৃতকে আট দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতির সাথে আরও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ রয়েছে, যাঁদের নাম খুব শীঘ্রই জেরার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *