সকাল-দুপুর-রাত সব ভারত নয়! অতিরিক্ত ভারত-আসক্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইছে বাংলাদেশ

সকাল-দুপুর-রাত সব ভারত নয়! অতিরিক্ত ভারত-আসক্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইছে বাংলাদেশ

নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোড়া লাগাতে চাইছে ঢাকা। সম্প্রতি ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই বাংলাদেশের তরফে এই সম্পর্কের বরফ গলানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান দেখে নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

ভারতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ভারতের আয়োজিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেক (BIMSTEC) চেয়ারপার্সন হিসেবে এবং পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করে দিল্লি আসেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং বিএনপির রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান ও অন্যান্য সমমনোভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির চেষ্টাও কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সুর নরম করে ঠিক কী জানিয়েছে ঢাকা? বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ঢাকা চায় নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন অধ্যায়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে। তবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব বলে মত তাঁর। মন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারতও বিশ্বের অন্য দশটি দেশের মতোই একটি রাষ্ট্র। পারস্পরিক স্বার্থ ও ভারসাম্য বজায় রেখেই আমাদের কূটনীতি চালাতে হবে।’ একটু রূপক অর্থেই তিনি যোগ করেন, ‘সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার—সবই যদি ভারতে হয়, তবে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?’ অর্থাৎ, অন্য দেশের প্রভাব বা অতি-নির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব সার্বভৌম স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।

সামনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ ব্রিকস অধ্যায় চুকে যাওয়ার পর এবার নজর জাতিসংঘের সাধারণ সভার দিকে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন মুলুকে অবস্থানকালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, মার্কিন সফرهর ঠিক প্রাক্কালে ভারতের প্রতি ঢাকার এই নরম মনোভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *