সাফাইকর্মীর ‘টেস্ট ড্রাইভ’! হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সের তাণ্ডবে রক্তারক্তি কাণ্ড

সাফাইকর্মীর ‘টেস্ট ড্রাইভ’! হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সের তাণ্ডবে রক্তারক্তি কাণ্ড

মালদা: হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে সাফাইকর্মীর বেপরোয়া ‘টেস্ট ড্রাইভ’। তার জেরে গুরুতর জখম হলেন এক ল্যাবরেটরি কর্মী, অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচল একাধিক রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের। সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়ায়।

ঘটনার সূত্রপাত অ্যাম্বুল্যান্স চালক রূপম দাসের কাছ থেকে। প্রতিদিনের মতোই কাজ শেষে রূপমের সঙ্গে গল্প করছিলেন হাসপাতালেরই সাফাইকর্মী সিটুল হরিজন। কথাচ্ছলে অ্যাম্বুল্যান্স চালানোর আবদার জানান সিটুল। রূপম ও তাঁর সহকর্মীরা জানতেন, সিটুল সামান্য গাড়ি চালাতে পারেন। সেই বিশ্বাস থেকেই হাসপাতালের ফাঁকা চত্বরে গাড়ি ঘুরিয়ে দেখার জন্য তাঁর হাতে চাবি তুলে দেওয়া হয়।

চাবি পেতেই বিপত্তি। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার পরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ওই সাফাইকর্মী। বেপরোয়া গতিতে অ্যাম্বুল্যান্সটি হাসপাতাল চত্বরে বনবন করে ঘুরতে থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই এক রোগীর রক্তের নমুনা নিতে হাসপাতালে ঢুকছিলেন স্থানীয় একটি বেসরকারি ল্যাবের কর্মী মহম্মদ রব্বানি। অনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুল্যান্সটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারলে তিনি ছিটকে পড়েন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ধাক্কার চোটে ওই ল্যাবকর্মীর পা-সহ শরীরের অন্তত তিনটি জায়গার হাড় ভেঙে গিয়েছে।

দুর্ঘটনার পরও প্রায় মিনিটখানেক ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছুটতে থাকে গাড়িটি। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন রোগীর পরিজনেরা। অবশেষে হাসপাতালের নবনির্মিত একটি বাগানের লোহার ব্যারিকেডে ধাক্কা মেরে অ্যাম্বুলেন্সটি থেমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গাড়ি ফেলে চম্পট দেন অভিযুক্ত সিটুল।

রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাফাইকর্মী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। গাড়ি চালাতে না জানা সত্ত্বেও তাঁর হাতে চাবি দেওয়া অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (BMOH) পারভেজ আঞ্জুম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *