‘বস্তায় মেয়ের বডি!’ বাইকে প্রেমিকার লাশ নিয়ে রাতে ঘুরতে গিয়েই ধরা পড়ল যুবক
পুরুলিয়া-জামশেদপুর ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কের মোড়। ঘন অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে একটি লাল রঙের মোটরবাইক। পিছনের পাদানি ও চাকার রিংগার্ড বেয়ে টপ টপ করে ঝরছে রক্তের ধারা। বাইকের পিছনে মোবাইলের চার্জারের তার দিয়ে বাঁধা একটি বস্তা। সওয়ারি যুবককে চাপ দিতেই মিলল হাড়হিম করা জবাব— ‘বস্তার ভেতরে একটা মেয়ের বডি আছে!’ শনিবার রাতে বলরামপুর এলাকায় টহল দেওয়ার সময় এই রোমহর্ষক ঘটনার মুখোমুখি হন ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্ত কুমার। তাঁর সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ধরা পড়ল ২১ বছরের অভিযুক্ত যুবক অমিত মাহাতো।
অন্ধকারে রক্তভেজা বস্তা ও ভিলেজ পুলিশের সাহসিকতা শনিবার রাত সোয়া ১১টা নাগাদ রথতলা মাসির বাড়ির বাগানের কাছে সন্দেহজনক অবস্থায় অমিতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্ত। যুবকের কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় তিনি কাছে গিয়ে বাইকে টর্চ ফেলতেই দেখতে পান রক্তের দাগ। ‘বস্তায় কী আছে?’ প্রশ্নের জবাবে অমিত খুনের কথা স্বীকার করতেই, সে যাতে পালাতে না পারে সেজন্য লক্ষ্মীকান্ত নিজের বাইকটি আড়াআড়িভাবে অমিতের বাইকের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন বলরামপুর থানায়। পুলিশ এসে চার্জারের তারে বাঁধা বস্তা খুলে ১৯ বছরের এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করে এবং অমিতকে গ্রেফতার করে।
ফাঁকা মেসে ষড়যন্ত্র ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অমিত দাবি করে, তার প্রেমিকা একাধিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং তাকে আর্থিক স্বার্থে ব্যবহার করছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে নার্সিং পড়তে যাওয়ার কথা ছিল ওই তরুণীর। শনিবার ছুটির দিনে মেসের বাকি আবাসিকরা বাড়ি চলে যাওয়ায় ফাঁকা মেসে প্রেমিকা ডেকে পাঠায় অমিত। সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে বস্তায় ভরে বাইকে চাপিয়ে ঘুরতে থাকে সে।
তদন্ত ও পুলিশি সংবর্ধনা সোমবারে ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্ত কুমারের এই অসামান্য সতর্কতার প্রশংসা করে তাঁকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করেন পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ।
অন্যদিকে, নিহত তরুণীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে এবং খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে।