চাঁদের ‘অদৃশ্য’ মাটি জাতিসংঘের হাতে, চীনের ঐতিহাসিক উপহার

চাঁদের ‘অদৃশ্য’ মাটি জাতিসংঘের হাতে, চীনের ঐতিহাসিক উপহার

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে চাঁদের ‘অদৃশ্য’ বা দূরবর্তী অংশের মাটি ও পাথরের নমুনা জাতিসংঘের হাতে তুলে দিল চীন। ‘চ্যাং’ই-৬’ অভিযানের মাধ্যমে সংগৃহীত এই অমূল্য বৈজ্ঞানিক সম্পদ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত জাতিসংঘের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এখন থেকে হস্তান্তরিত নমুনাগুলো সেখানেই স্থায়ী প্রদর্শনী হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতেই বেজিংয়ের এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনুষ্ঠানে চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মকর্তা শান ঝংদে জানান, মহাকাশ অভিযান কোনো একক দেশের সাফল্য নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির যৌথ স্বপ্ন। জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা গাদা ওয়ালি ও জাতিসংঘের মহাকাশ বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক আরতি হোলা-মেইনি চীনের এই উদ্যোগের তীব্র প্রশংসা করে বলেন, এটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং বিশ্বের যৌথ দায়ের এক অনন্য প্রতীক।

২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া সফল চ্যাং’ই-৬ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরু-আইটকেন বেসিন থেকে প্রায় ১,৯৩৫.৩ গ্রাম নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে চীন। পৃথিবী থেকে চাঁদের ওই অংশটি সব সময় আড়ালেই থাকে, ফলে সেখানকার ভূতাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে তথ্য ছিল অত্যন্ত সীমিত। বিজ্ঞানীদের মতে, সংগৃহীত নমুনাগুলো গবেষণার মাধ্যমে চাঁদের জন্মরহস্য এবং অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে বহু অজানা তথ্য উদঘাটিত হবে, যা বিশ্ব মহাকাশ বিজ্ঞানকে এক নতুন দিশা দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *