“ধনী দেশগুলির নির্গমন ৬ গুণ বেশি, দায় আমাদের কেন?” বিশ্বমঞ্চে কড়া জবাব মোদীর!

“ধনী দেশগুলির নির্গমন ৬ গুণ বেশি, দায় আমাদের কেন?” বিশ্বমঞ্চে কড়া জবাব মোদীর!

নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) আয়োজিত “দ্য ফিউচার অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট ডায়নামিক্স” শীর্ষক দু’দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবেশ দূষণের জন্য ঐতিহাসিক দায়ভার অন্যায়ভাবে ভারতের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। বিশ্বের ১৭টি দেশের বিচারপতি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সামনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন বিশ্ব গড়ের অর্ধেকেরও কম।

কার্বন নির্গমনের আসল পরিসংখ্যান:

  • ভারত: মাথাপিছু কার্বন নির্গমনের পরিমাণ গড়ে মাত্র ২.১ টন (বিশ্বের মোট নির্গমনে ভারতের অবদান মাত্র ৮%)।
  • আমেরিকা: মাথাপিছু নির্গমন ১৩.৪ টন
  • চীন: মাথাপিছু নির্গমন ৮.৯ টন
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন: মাথাপিছু নির্গমন ৫.৪ টন

পরিসংখ্যান তুলে ধরে মোদী দেখিয়ে দেন, উন্নত দেশগুলিতে নির্গমনের মাত্রা ভারতের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণের আসল কারণ কোনোভাবেই ভারত বা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলি নয়।

উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা—দুই-ই সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং শিল্প উন্নয়ন যে একই সাথে চলতে পারে, তা ভারত বাস্তবায়িত করে দেখিয়েছে। বিশাল জনসংখ্যা সত্ত্বেও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত উপায়ে দেশীয় কার্বন নির্গমন ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রায় শীর্ষে ভারত: গত ১২ বছরে ভারতে সৌরশক্তি ও অচিরাচরিত শক্তির অভূতপূর্ব প্রসার ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন, G20 রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যারা প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে (COP21) করা সমস্ত অঙ্গীকার নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সফলভাবে পূরণ করেছে।

অজীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আজ ভারতের গৃহীত ‘গ্রিন মডেল’ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান বৈশ্বিক জলবায়ু রাজনীতিতে নয়া দিল্লির স্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *