ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ বানানোর চক্রান্ত ভেস্তে গেল, ৩ মাস পর জামিন জলিলের

ভারতীয় নাগরিককে ‘বাংলাদেশি’ বানানোর চক্রান্ত ভেস্তে গেল, ৩ মাস পর জামিন জলিলের

তিন মাসের বিভীষিকা কাটিয়ে অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন উত্তরবঙ্গের করণদিঘির ৬৬ বছরের বৃদ্ধ জলিল আখতার। বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সাজিয়ে পুশব্যাক করা এবং সাজানো অনুপ্রবেশের মামলায় আটকে রাখার প্রশাসনিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ ঘোষণা করেছে ইসলামপুর আদালত।

ঘটনার নেপথ্যে গত ১৯ জুন গভীর রাতে করণদিঘি ব্লকের বাঘরই গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুমান্ত জলিলকে তুলে নিয়ে যায় ডালখোলা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কোনো তথ্য না দিয়েই ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতির মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর চক্রান্ত করা হয়। প্রথমে ফুলবাড়ি হোল্ডিং সেন্টার ও পরে নিজামপুর ডিটেনশন ক্যাম্পে গোপন রাখার পর, পরিবারের প্রতিবাদের মুখে বাধ্য হয়ে ২২ জুলাই তাঁকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ সাজিয়ে আদালতে পেশ করে পুলিশ।

আদালতে নথির জয় পরিবারের পেশ করা ১৯৬৭ সালের জমির দলিল, ২০০২ ও ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা এবং প্যান ও রেশন কার্ড যাচাই করে তদন্তকারী আধিকারিকও সেগুলির বৈধতা মেনে নেন। ইসলামপুর এসিজেএম আদালতে জলিল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিচারক মঙ্গলবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা ও এলাকা না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষোভ ও পারিবারিক দুর্ভোগ আইনজীবী সাহিদ রেজা জানান, জটিল আইনি প্রক্রিয়ার পর নিরপেক্ষ তদন্ত ও নথির সত্যতার ভিত্তিতেই জামিন মিলেছে। অন্যদিকে, জলিলের ভাই মতিউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সব নথি থাকা সত্ত্বেও একটি গরিব পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে; ফসলের সমস্ত টাকা মামলা লড়তে গিয়ে শেষ হয়েছে। ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির অভিযোগ, এটি প্রশাসনের পরিকল্পিত বেআইনি পুশব্যাকের চেষ্টা ছিল, যা নাগরিক আন্দোলন ও পরিবারের জেদের মুখে ভেস্তে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *