“নিয়ম জানতাম না!” ভাতা বিতর্কে সাফাই কাউন্সিলরের, ক্ষোভে ফুটছে মালদা

পাকা দোতলা বাড়ি, নিজস্ব গাড়ি এবং স্বামীর ভারতীয় রেলে স্থায়ী চাকরি—এত কিছুর পরেও সরকারি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। পুরাতন মালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর বাসন্তী রায় ও তাঁর মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই সরকারি অনুদান ঢোকা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে।
অভিযোগ ও বিতর্ক স্থানীয় সূত্রের খবর, বাসন্তী রায় কেবল পুরসভার কাউন্সিলরই নন, বিজেপির পুরাতন মালদা নগর মণ্ডলেরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী। রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ দুস্থ মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাসন্তী দেবী এই প্রকল্পের তালিকায় নিজের এবং মেয়ে সুস্মিতা রায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন।
কাউন্সিলরের সাফাই বিতর্ক শুরু হতেই সাফাই দিয়েছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর। বাসন্তী দেবীর দাবি, “আমি অফলাইনে আবেদন করেছিলাম। ভেবেছিলাম চাকরি না করা সব মহিলাই এই সুবিধা পাবেন। সরকারি সঠিক নিয়ম না জানার কারণেই এই ভুল হয়েছিল। তবে আমি একবারই অনুদানের টাকা পেয়েছি, এখন আর পাচ্ছি না।”
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কাউন্সিলরের এই যুক্তিতে বিন্দুমাত্র শান্ত হচ্ছেন না এলাকার গরিব মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা পাপিয়া পাল জানান, স্বামী সবজি বিক্রেতা এবং তিনি নিজে বাসাবাড়িতে কাজ করলেও দিনের পর দিন আবেদন জানিয়ে অনুদান পাননি। উল্টে আবেদনের ভুলে অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে ঘুরানো হয়েছে। বিত্তবানরা সরকারি টাকা পাচ্ছেন অথচ প্রকৃত দুস্থরা বঞ্চিত হচ্ছেন—এই অভিযোগে ক্ষোভ ফুঁসছে গোটা এলাকা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ঘটনায় বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রতাপ সিং জানান, সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করলে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নিয়ম থাকে না। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে সকলেই নিয়ম মেনে ভাতা পাবেন। তবে নতুন সরকারের আমলেও এমন স্বজনপোষণের অভিযোগে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গেছে।