মিড-ডে মিলে পুরনো পদ্ধতিই বহাল, সিদ্ধান্ত বদলের মুখে স্পষ্ট জবাব ইসকনের

রাজ্যের জেলাগুলিতে ইসকন পরিচালিত ‘অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে মিড-ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কলকাতা মডেলের ওপর ভিত্তি করে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং নন্দীগ্রামের বিভিন্ন ব্লকে ইসকনের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের খাবার চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আচমকাই সেই সিদ্ধান্তে বদল এনে পুরনো পদ্ধতিতেই স্কুলে স্কুলে খাবার তৈরির নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। এই নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি হতেই একটি স্পষ্টীকরণ প্রেস বিবৃতি জারি করেছে ইসকন।
বিবৃতিতে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, গত ১ অগস্ট থেকে কলকাতায় চালু হওয়া তাদের প্রথম কেন্দ্রীয় রান্নাঘরটি সাফল্য অর্জন করেছে। শহরের সরকারি স্কুলগুলিতে খাবারের গুণমান, স্বাদ ও পুষ্টি নিয়ে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই অন্যান্য জেলায় পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ছিল এবং ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের সাথেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার আশা রাখছে তারা।
অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতা ও প্রধান বক্তব্য:
- দীর্ঘ অভিজ্ঞতা: ২০০৪ সাল থেকে ভারতে মিড-ডে মিল পরিবেশন করছে এই সংস্থা। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও হরিয়ানাসহ একাধিক রাজ্যে প্রতিদিন ১২ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে খাবার দেওয়া হয়।
- বিশাল নেটওয়ার্ক: মূল সংগঠন ইসকনের ভারতে ৪৫০টিরও বেশি শাখা রয়েছে (যার মধ্যে বাংলায় ৩৫টি শাখা)। বিশ্বজুড়ে ফুড রিলিফ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া হয়।
- বেঙ্গালুরু বিতর্ক নিয়ে স্পষ্টীকরণ: ‘ইস্কন বেঙ্গালুরু সোসাইটি’-র সাথে মূল আন্তর্জাতিক ইসকন ও অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আইনি বিরোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর ওই ট্রাস্টের সাথে মূল আন্তর্জাতিক ইসকনকে গুলিয়ে ফেলা একেবারেই অনুচিত।