‘ব্রেকআপ’ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকার বাবাকে মদ খাইয়ে বাড়িতে আগুন! চাঞ্চল্য

আলিপুরদুয়ার: প্রেমিকা সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছেন, আর সেই আক্রোশেই প্রেমিকার বাবাকে মদ খাইয়ে ঘরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে প্রৌঢ়কে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সুকান্তপল্লির এক বাড়িতে আচমকাই আগুন জ্বলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকলে। ঘটনার খবর পেয়েই পৌঁছায় দমকলের ২টি ইঞ্জিন। প্রায় ঘণ্টার দেড়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যায় পুরো ঘর। পরে ঘরের ভেতর থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৬৫ বছরের প্রৌঢ় নরেশ ঘোষকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে।
কেন এই ভয়াবহ কাণ্ড? নরেশবাবুর মেয়ে মঞ্জু ঘোষের অভিযোগের তির তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক অনিল সরকারের দিকে। মঞ্জু জানান, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। দিন তিনেক আগে তিনি অনিলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এর পর অনিল বারবার ফোন করলেও তিনি আর কথা বলেননি।
মঞ্জুর দাবি, “ফোন বন্ধ রাখায় অনিল চরম রাগে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আমি যখন বাড়িতে ছিলাম না, তখন ও এসে বাবার সঙ্গে বসে মদ খায়। এর পর বাবাকে মত্ত অবস্থায় ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে আগুন লাগিয়ে চম্পট দেয়।” বাড়ি ফেরার পথে মঞ্জু নিজে অনিলকে পালিয়ে যেতে দেখেন এবং ভয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।
গণপিটুনি অভিযুক্তকে, তদন্তে পুলিশ: ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত অনিল সরকার। উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণধোলাই দেয় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করেছে। প্রৌঢ়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।