“রাজ্যকে শোষক বানাচ্ছেন কেন?” নোয়েডার ডিএম-এর আবেদনে আকৃতির পাল্টা ক্যাভিয়েট

“রাজ্যকে শোষক বানাচ্ছেন কেন?” নোয়েডার ডিএম-এর আবেদনে আকৃতির পাল্টা ক্যাভিয়েট

আইএএস অফিসারের বেতনে কোপ এবং সার্ভিস রেকর্ডে কড়া মন্তব্যের জেরে আইনি যুদ্ধ গড়াচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালতে। নোয়েডার জেলা শাসক (ডিএম) মেধা রূপম ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তথা অধিকার রক্ষা কর্মী আকৃতি চৌধুরীর এই দ্বন্দ্ব এখন আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার সীমা ও নাগরিক অধিকারের মধ্যে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

হাইকোর্টের কড়া অবস্থান ও অভূতপূর্ব জরিমানা ২০২৬ সালের এপ্রিলে নোয়েডায় শ্রমিক আন্দোলনের সময় আকৃতি চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জেলা শাসক মেধা রূপম তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন (NSA) প্রয়োগের অনুমোদন দেন। কিন্তু ইলাহাবাদ হাইকোর্টে দফায় দফায় সময় দেওয়া হলেও আকৃতির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের কোনো উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে পারেনি প্রশাসন।

এর পরেই কড়া সুর চড়ায় হাইকোর্ট। আকৃতির ওপর থেকে এনএসএ বাতিল করে আদালত স্পষ্ট জানায়, যথাযথ তথ্য ছাড়াই এমন কঠোর আইন প্রয়োগ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, যা রাজ্যকে একটি ‘শোষক সংস্থায়’ রূপ দেয়। এর পরেই ডিএম মেধা রূপমের বেতন থেকে সরাসরি ৫ লাখ টাকা কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টে চাল ও পাল্টা চাল

  • ডিএম-এর স্পেশাল লিভ পিটিশন: হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর অবিলম্বে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পেতে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধানের ১৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দায়ের করেন নোয়েডার ডিএম।
  • ছাত্রনেত্রীর ক্যাভিয়েট: ডিএম-এর আইনি পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আকৃতি চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টে একটি ‘ক্যাভিয়েট’ (Caveat) ফাইল করেন। ফলে আকৃতির পক্ষ না শুনে আদালত জেলা শাসককে একতরফা কোনো স্বস্তি দিতে পারবে না।

বর্তমান পরিস্থিতি সুপ্রিম কোর্ট জেলা শাসকের আবেদন এবং ছাত্রনেত্রীর ক্যাভিয়েট—দুটি বিষয়কে একসঙ্গে যুক্ত করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই এখন সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *