আকাশপথে হামলার আতঙ্ক: ইতিহাসে প্রথমবার মক্কায় লাল সতর্কতা!

আকাশপথে হামলার আতঙ্ক: ইতিহাসে প্রথমবার মক্কায় লাল সতর্কতা!

ইতিহাসে এই প্রথম আকাশপথে হামলার আশঙ্কায় পবিত্র মক্কা নগরীতে উচ্চ সতর্কতা (High Alert) জারি করল সৌদি আরব। সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর—মক্কা, জেদ্দা ও তায়েফে সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পর দ্রুত সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও নজিরবিহীন এই ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পরই রিয়াদ এই পদক্ষেপ নেয়। সুরক্ষার খাতিরে মদিনার ‘প্রিন্স মহম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ কিছুক্ষণ বিমান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ রাখা হয়। এর আগে হুথিদের নিক্ষেপ করা ড্রোনে সৌদিতে ১৩ জন আহত হন, যার জবাবে সৌদি-সমর্থিত যৌথ বাহিনী ইয়েমেনের তায়েজ শহরে পাল্টা হামলা চালায়।

সৌদি সিভিল ডিফেন্স সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ জানিয়েছে, আপাতত মক্কার ওপর থেকে বিপদ কেটে গেছে। তবে নাগরিকদের ভিড় এড়িয়ে চলতে, হামলার ছবি বা ভিডিও তৈরি না করতে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার অভিযোগ শক্ত হাতে খারিজ করেছে হুথি পলিটব্যুরো। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ঘোরাতে সৌদি আরব অসার ও পুরোনো তথ্য ছড়াচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের সাম্প্রতিক হামলায় সৌদির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ৭৩ জন আহত হন। হুথিরা ইয়েমেনি সীমান্ত সংলগ্ন ‘কিং খালিদ বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করেও ডজন ডজন ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার দাবি করেছে।

এই সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতার предупреждение দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথটি বন্ধ হলে তা সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

একদিকে হুথিদের আক্রমণাত্মক মনোভাব, অন্যদিকে সংঘাত থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক সাহায্য না করার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র চাপে পড়েছে রিয়াদ। বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা রক্ষা এবং হুথি বিদ্রোহ দমনে সৌদি আরব পরবর্তীকালে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *