সব কিছুতেই অতিরিক্ত চিন্তা? জানুন ‘ওভারথিংকিং’ কীভাবে শরীর ও মন বরবাদ করছে
September 16, 202611:10 am

“কাল কী হবে?” কিংবা “ও কথাটা কেন বলল?”—এমন সব দুশ্চিন্তা কি আপনার মাথায় সারাদিন ঘোরে? তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে নিজেকে মানসিক চাপে ফেলাই হলো ‘ওভারথিংকিং’। অতিরিক্ত ভাবনায় সমস্যার সমাধান তো হয়ই না, বরং এটি ধীরে ধীরে জীবন, সুস্থতা ও সম্পর্ক ধ্বংস করে দেয়।
ওভারথিংকিং শরীর ও মনের যে ৪টি বড় ক্ষতি করে:
- মস্তিষ্কের মানসিক ক্লান্তি: অনবরত চিন্তার ফলে মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। ফলে মস্তিষ্ক সারাক্ষণ ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে থাকে। সাধারণ পোশাক নির্বাচন বা খাবার পছন্দ করার মতো ছোট সিদ্ধান্ত নিতেও হিমশিম খেতে হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘অ্যানালিসিস প্যারালিসিস’।
- ঘুমের ব্যাঘাত ও শারীরিক রোগ: রাতে শুলেই মাথায় চিন্তার পাহাড় জমে, ফলে ঘুম উধাও হয়ে যায়। অনিদ্রা থেকে পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ব্যথা, হজমের গোলমাল, ওজন বৃদ্ধি এবং ইমিউনিটি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
- সম্পর্কে ফাটল: প্রিয়জনের সাধারণ কথার পেছনে অযথা লুকানো অর্থ খোঁজা বা সন্দেহ করা বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট করে। ফলে সুন্দর সুন্দর সম্পর্কগুলো শুধু অতিরিক্ত ভাবনার কারণেই ভেঙে যায়।
- বর্তমান হারিয়ে যাওয়া: ওভারথিংকিং মানুষকে অতীতের আফসোস অথবা ভবিষ্যতের ভয়ে বন্দি করে রাখে। ফলে আজকের সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করা সম্ভব হয় না।
ওভারথিংকিং থেকে মুক্তির উপায়:
- চিন্তা লিখে রাখুন: মাথায় যা ঘুরছে তা কাগজে লিখে ফেলুন। এতে মাথার ওপর থেকে চাপ প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
- ‘ওয়ারি টাইম’ নির্দিষ্ট করুন: সারাদিন না ভেবে দুশ্চিন্তা করার জন্য দিনে মাত্র ১৫ মিনিট সময় নির্দিষ্ট করুন। বাকি সময় চিন্তা এলে বলুন, “পরে ভাবব”।
- কাজে ব্যস্ত থাকুন: মস্তিষ্ককে ফাঁকা না রেখে হাঁটা, গান শোনা বা পছন্দের কাজে মন দিন।
- যৌক্তিক প্রশ্ন করুন: নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, “আমি যা ভাবছি তা কি আদৌ সত্যি? এক মাস পর কি এর কোনো গুরুত্ব থাকবে?”
চিন্তা করা স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত চিন্তা বিষের মতো। নিজে সামলাতে না পারলে নিঃসংকোচে একজন মনোবিদের পরামর্শ নিন।