পুজোর আগেই মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের বিরাট স্বস্তি! চিনি নিয়ে মোদী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

পুজোর আগেই মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের বিরাট স্বস্তি! চিনি নিয়ে মোদী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

সামনেই উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো থেকে দীপাবলি—মিষ্টি ও পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির চাহিদার গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে বাজারের জোগান স্বাভাবিক রাখা এবং খুচরো বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার।

উৎসবের মরশুমে যাতে চিনির আকাল না হয় এবং কৃত্রিমভাবে দাম না বাড়ানো যায়, সে জন্য বড় বা পাইকারি চিনির ক্রেতাদের (Bulk Consumers) ক্ষেত্রে চিনি মজুতের ঊর্ধ্বসীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ৩০ দিন করা হয়েছে।

ঠিক কী নিয়ম বদলাচ্ছে?

বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির জন্য নতুন এই নিয়মে কিছু বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে:

  • ৩০ দিনের মজুত: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং ব্যবসার মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখন থেকে ৩০ দিনের চাহিদার চিনি মজুত রাখতে পারবে।
  • আমদানিকৃত চিনিতে ছাড়: দেশীয় মিল থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে পুরোনো ১৫ দিনের নিয়মই বহাল থাকছে। অতিরিক্ত ১৫ দিনের চিনি বাধ্যতামূলকভাবে ‘অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম’ (AAS) বা ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ)-র আওতায় বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত চিনি হতে হবে।
  • কড়া নজরদারি: যে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে, তাদের প্রতি শুক্রবার সরকারি পোর্টালে মোট মজুতের তথ্য আপডেট করতে হবে।

কেন পাইকারি ক্রেতাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত?

ভারতে বছরে প্রায় ২৮০ থেকে ২৮৫ লাখ টন চিনির চাহিদা থাকে। যার মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশই ব্যবহার করে বড় বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি (হোটেল, পানীয় ও খাদ্য প্রস্তুতকারক)। সাধারণ পরিবারগুলির ব্যবহারের জন্য লাগে বাকি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ চিনি।

বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে আমদানিকৃত চিনি ব্যবহারে বাধ্য করার ফলে দেশীয় বাজারে চিনির চাপ কমবে। এর ফলে সাধারণ গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য খোলা বাজারে চিনির জোগান প্রচুর থাকবে এবং দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কমছে চিনির দাম, সুফলের অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ

সম্প্রতি মিল পর্যায়ে চিনির পাইকারি দর (Ex-Mill Rate) প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু খুচরো বাজারে সেই তুলনায় দাম কমার গতি কিছুটা ধীর।

  • আগস্টের দাম: ₹৬৫ / কেজি
  • বর্তমান খুচরো দর: ₹৫৮.৫০ / কেজি (প্রায় ১০% পতন)

সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ‘ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাথে বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মিল পর্যায়ে যে দর কমেছে, তার পুরো সুবিধা যেন অবিলম্বে সাধারণ খুচরো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

১ অক্টোবর থেকে নতুন চিনি মরশুম

আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশে নতুন চিনি মরশুম শুরু হতে চলেছে। এই মরশুমে আখের ‘ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য’ (FRP) বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৩৬৫ টাকা করা হয়েছে। আখচাষীদের লাভের মুখ দেখানো এবং সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী দামে চিনি সরবরাহ করার জোড়া লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে কেন্দ্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *