“ভুল ঠিকানায় এসেছেন!” গোয়েন্দা দেখে মালিকদের আজব বাহানা, আমহার্স্ট স্ট্রিটে সিবিআই হানা

কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর বেআইনি নির্মাণ ও প্রোমোটিং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে সরাসরি ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। নারকেলডাঙা, আমহার্স্ট স্ট্রিট, মানিকতলা ও বেলেঘাটার একাধিক এলাকায় হঠাৎই ঝটিকা অভিযান চালান গোয়েন্দারা। তবে নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তীব্র নাটকের।
দরজা খুলতেই আজব দাবি: “ভুল ঠিকানায় এসেছেন!” তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নারকেলডাঙা এলাকার প্রায় ৫৫টি চিহ্নিত বেআইনি নির্মাণের তথ্য জোগাড় করতে মাঠে নেমেছেন সিবিআই আধিকারিকেরা। ফ্ল্যাটের আসল মালিক কে, কার নামে মিউটেশন রয়েছে এবং নির্মাণের বৈধ কাগজপত্র আছে কি না—তা যাচাই করাই মূল উদ্দেশ্য।
তবে সিবিআই কর্তারা নির্দিষ্ট দরজায় কড়া নাড়তেই তৈরি হচ্ছে চরম ধোঁয়াশা। একের পর এক ফ্ল্যাট মালিক সিবিআই দেখে দাবি করে বসছেন, “আপনারা ভুল ঠিকানায় এসেছেন, নথির ঠিকানার সঙ্গে আমাদের মিল নেই!” তদন্ত এড়াতে বা আসল মালিকানা লুকাতেই কি এমন বাহানা? খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
ক্যানাল ইস্ট রোড থেকে রাজাবাজার: আতঙ্কে প্রোমোটার চক্র সম্প্রতি ক্যানাল ইস্ট রোডের একটি তিনতলা বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই-এর প্রতিনিধি দল। মানিকতলা, রাজাবাজার, নারকেলডাঙা ও বেলেঘাটা এলাকা মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি বহুতল নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠার অভিযোগ সামনে এসেছে।
কলকাতা পুরসভার (KMC) রিপোর্টেই অন্তত ৪২টি নির্মাণকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, পুরসভা থেকে ভাঙার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী ও প্রশাসনিক চাপের কারণে তা কার্যকর করা হয়নি।
হাজার কোটির কালো টাকা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন আদালতে পেশ করা অভিযোগে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি কেবল আবাসন সংক্রান্ত অনিয়ম নয়, এর পেছনে রয়েছে হাজার কোটি টাকার আর্থিক অপরাধ চক্র:
- কালো টাকা সাদা: তোলাবাজি ও হিসাববহির্ভূত কালো টাকা রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ করে সাদা করা হয়েছে।
- অনুমতিহীন নির্মাণ: পুরসভার নূন্যতম নকশা অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক বহুতল মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।
- জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি: বেআইনি অর্থ লেনদেন এবং অননুমোদিত বহুতল নির্মাণের ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন, প্রয়োজনে গঠন হবে এসআইটি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, দুর্নীতির জটিল জাল উন্মোচনে প্রয়োজনে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করতে পারবে সিবিআই। তদন্তের গতি বজায় রাখতে আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই-এর এই সাঁড়াশি অভিযানের পর থেকেই কলকাতার প্রোমোটার সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী মহলে হাহাকার পড়ে গেছে।