ভোটের ৩ দিন আগে পর্যন্ত জেলেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী! সোমে ফের কোর্টে পেশ

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন। তার ঠিক তিন দিন আগে, অর্থাৎ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল হলদিয়া মহকুমা আদালত। নন্দীগ্রাম থানার তিনটি মামলায় নিম্ন আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, খেজুরি থানার অন্য একটি মামলায় আগামী সোমবার তাঁকে ফের কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর পরই শুক্রবার সন্ধ্যায় চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মিলন প্রধানকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে। ভোটের ঠিক মুখে ১৯ বছরের পুরনো মামলায় প্রার্থীর গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ এবং ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে তোপ দাগিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কংগ্রেসের আইনজীবী অজিতেশ পান্ডে জানান, “আমরা আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলাম। মনোনয়ন পেশের পরপরই এত পুরনো পরোয়ানার ভিত্তিতে কেন গ্রেপ্তার করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালত পুলিশের কাছে জানতে চাইলে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, এতদিন মিলন প্রধানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশের পর আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।”
অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ২০০৭ সাল থেকেই মিলন পলাতক ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ভোটের আগে পুরনো মামলার বকেয়া পরোয়ানা কার্যকরের যে বিশেষ অভিযান চালানো হয়, তারই অঙ্গ হিসেবে তাঁকে আইনসম্মতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।