ঢাবিতে বঙ্গবন্ধু ‘আউট’, জিন্নাহ ‘ইন’: ক্ষোভে ফেটে পড়ল ডাকসু

ঢাবিতে বঙ্গবন্ধু ‘আউট’, জিন্নাহ ‘ইন’: ক্ষোভে ফেটে পড়ল ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু (DUCSU) সংগ্রহশালা সংস্কারের পর পুনরায় খোলার পরেই দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক। সংগ্রাহশালা থেকে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে স্থান দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের জনক মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর তিনটি ছবি। এই ঘটনা কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্রদের ক্ষোভ ও ছবি ছেঁড়ার ঘটনা

বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলা ভাষা বিরোধী জিন্নাহর ছবি টাঙানোর প্রতিবাদে সরব হয়েছে একাধিক ছাত্র সংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন দল এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র শাহরিয়ার মুসতাক ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, রাষ্ট্রভাষা বাংলার বিরোধিতাকারীর ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় স্থান পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এই প্রতিবাদের আবহেই আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক ছাত্র সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে জিন্নাহর তিনটি ছবিই ছিঁড়ে ফেলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত

১৯৪৭-৪৮ সালে জিন্নাহর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েই পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই বাংলা বিরোধী জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও দোস্তি বাড়ার যে ইঙ্গিত মিলছিল, ডাকসুর এই পদক্ষেপ তাকে আরও জোরদার করল বলে মনে করা হচ্ছে।

ডাকসুর ব্যাখ্যা ও বিশিষ্টদের মত

ঘটনার সাফাই গেয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ দাবি করেছেন, জিন্নাহর ছবির নিচে তাঁর বাংলা ভাষা বিরোধী অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। তবে বাংলাদেশের বিশিষ্টজনদের একাংশের অভিযোগ, এটি প্রদর্শনীর নামে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে বিকৃত করার এবং মুছে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *