১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো: জানুন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারের অমর কীর্তি

১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো: জানুন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রথম ইঞ্জিনিয়ারের অমর কীর্তি

সাধারণত ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হলেও, ২০২৬ সালে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা এক দিন পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। হিন্দু পুরাণ মতে, সত্য থেকে কলি—চার যুগ ধরেই ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রধান স্থপতি বিশ্বকর্মার অতুলনীয় অলৌকিক শিল্পকীর্তি।

সূর্যতেজ থেকে তৈরি দিব্যাস্ত্র

সূর্যদেবের অতিরিক্ত তেজের কারণে তাঁর স্ত্রী সংজ্ঞা দেবী কষ্ট পাচ্ছিলেন। তখন বিশ্বকর্মা সূর্যের তেজ কিছুটা হ্রাস করেন এবং সেই কেটে নেওয়া চূর্ণ দিয়ে তৈরি করেন দেবতাদের শ্রেষ্ঠ অস্ত্রসমূহ:

  • ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রমহাদেবের ত্রিশূল
  • কুবেরের পুষ্পক বিমান (যা পরবর্তীতে রাবণ দখল করেছিল)।
  • বৃত্রাসুর বধের জন্য ঋষি দধিচির অস্থি দিয়ে তৈরি দেবরাজ ইন্দ্রের অমোঘ বজ্র

স্থাপত্যবেদ ও পৌরাণিক মায়ানগরী

বিশ্বকর্মা কেবল কারিগর নন, তিনি চার উপবেদের অন্যতম ‘স্থাপত্যবেদ’ এবং ‘বাস্তুশাস্ত্রম’ গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর নির্মিত শ্রেষ্ঠ নগরীগুলো হলো:

  • স্বর্গলোক (অমরাবতী): সত্যযুগে দেবরাজ ইন্দ্রের শাসন পরিচালনার মূল কেন্দ্র।
  • দ্বাপর যুগের নগরীসমূহ: শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় নগরী দ্বারকা, কৌরবদের রাজধানী হস্তিনাপুর এবং পাণ্ডবদের জন্য খাণ্ডবপ্রস্থে নির্মিত মায়ানগরী ইন্দ্রপ্রস্থ। এই ইন্দ্রপ্রস্থের নকশায় বিভ্রান্ত হয়েই দুর্যোধন জলে পড়ে গিয়েছিলেন এবং দ্রৌপদীর উপহাস কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল।

পুরীর আসাম্পূর্ণ জগন্নাথ মূর্তি

পবিত্র ধাম পুরীর মন্দিরে স্থিত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি বিশ্বকর্মার এক অন্যতম অলৌকিক কাজ। শর্ত ভেঙে রাজা কাজে বাধা দেওয়ায় বিশ্বকর্মা মূর্তি তৈরি আসামাপ্ত রেখেই অন্তর্হিত হন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত হাতবিহীন এই রূপেই পূজিত হন ত্রিবিগ্রহ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *