‘বেঁচে আছে নাকি নেই, অন্তত জানান!’ নেপালে নিখোঁজদের স্বজন যন্ত্রণায় আজ নবান্নে বৈঠক

‘বেঁচে আছে নাকি নেই, অন্তত জানান!’ নেপালে নিখোঁজদের স্বজন যন্ত্রণায় আজ নবান্নে বৈঠক

কলকাতা: প্রিয়জন হারিয়ে যাওয়ার শোক যেমন অসীম, তার চেয়েও বহু গুণ বেশি যন্ত্রণাদায়ক বেঁচে থাকা বা না-থাকার এই নিরবচ্ছিন্ন অনিশ্চয়তা। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের ২১ দিন কেটে গেলেও রাজ্য থেকে যাওয়া বহু মানুষের এখনও কোনো হদিস মেলেনি। পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও কাটেনি দোলাচল। উৎসবের মুখে এই অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই আজ, বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হচ্ছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।

এই মানবিক সংকটে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে চীন সীমান্ত ঘেঁষা সম্ভাবনার তত্ত্ব। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা রায়ের স্বামী শুভ্রাংশু রায় (প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্র) জানান, বিপর্যয়ের আগেই তাঁর স্ত্রী হয়তো চীন সীমান্তের কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে গিয়েছেন। চীনের একটি সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া এই সূত্র সরকারি বা কূটনৈতিক স্তরে খতিয়ে দেখার আর্জি নিয়ে আজ তিনি নবান্নে যাচ্ছেন। একই আশার আলো খুঁজছেন বাঁকুড়ার ইন্দপুরের নিখোঁজ অশোক পালের পরিবারও।

প্রশাসনের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বজনদের কলকাতায় আনা হয়েছে। ইন্দপুর থেকে অশোকের বাবা-স্ত্রী এবং শিলিগুড়ি থেকে নিখোঁজ সমর মণ্ডলের পরিবার ইতিমধ্যেই পৌঁছচ্ছেন বৈঠকে। বারাসাতের নিখোঁজ সুস্মিতা ভট্টাচার্যের বয়োবৃদ্ধ স্বামীও উত্তরহীন যন্ত্রণায় দিন গুনছেন।

কোনো জাদুদণ্ড এক নিমেষে প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনবে না—তা জানেন পরিবারের সদস্যরা। তবুও চীনের সম্ভাব্য সূত্রটি সরকারিভাবে যাচাই এবং অনুসন্ধানে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের হস্তক্ষেপই এখন এই অসহায় মানুষগুলোর শেষ সম্বল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *