রোগী সেজে পুলিশের ঝটিকা হানা! সোনারপুরে গ্রেপ্তার ভুয়ো ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ

রোগী সেজে পুলিশের ঝটিকা হানা! সোনারপুরে গ্রেপ্তার ভুয়ো ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ

রাজ্যে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভুয়ো চিকিৎসকদের চক্র। সম্প্রতি সোনারপুর ও বারাসাতে পৃথক দুই ঘটনায় ফাঁস হলো দুই তথাকথিত ‘ডাক্তার’-এর পর্দা। সোনারপুরে ছদ্মবেশী পুলিশি অভিযানে এক ভুয়ো অনকোলজিস্ট হাতেনাতে গ্রেপ্তার হলেও, বারাসাতে জাল নথি দিয়ে হাসপাতাল চালানো এক মালিক চম্পট দিয়েছেন।

সোনারপুরে ছদ্মবেশী পুলিশের ‘স্ট্রিং অপারেশন’

সোনারপুরের ঘাসিয়ারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিশ্বরূপ আচার্য নামে এক ব্যক্তিকে। নিজেকে নামজাদা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (অনকোলজিস্ট) হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন তিনি।

  • জাল ডিগ্রি ও নেটওয়ার্ক: এমবিবিএস (MBBS) এবং এফআরসিএস (FRCS)-এর মতো উচ্চশিক্ষার জাল প্রশংসাপত্র ব্যবহার করতেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় তাঁর মোট ৮টি চেম্বার ছিল এবং রোগী পিছু ভিজিট ফি নিতেন ৮০০ টাকা।
  • যেভাবে ধরা পড়লেন: ঘাসিয়ারায় নতুন একটি চেম্বার খোলার পর তাঁর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় বাড়ির মালিকের। খবর পেয়ে সোনারপুর থানার পুলিশ রোগী সেজে চেম্বারে হানা দেয়। নথিপত্র যাচাই করতেই জালিয়াতি ধরা পড়ে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বারাসাতে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন, পলাতক হাসপাতাল মালিক

অন্য ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের কাজীপাড়ায়। সেখানে ‘সম্রাজ্ঞী সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল’-এর মালিক জুলফিকার মণ্ডলের বিরুদ্ধে উঠেছে জাল রেজিস্ট্রেশনের গুরুতর অভিযোগ।

  • জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ: বিহার কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের (BCMR) ভুয়ো সার্টিফিকেট জমা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল (WBMC) থেকে রেজিস্ট্রেশন হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
  • উধাও অভিযুক্ত: বিষয়টি জানাজানি হতেই হাসপাতাল ও গাইঘাটার বাড়ি ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন জুলফিকার। বর্তমানে হাসপাতালটিতে শাটার ফেলে দেওয়া হয়েছে।
  • আগের বিতর্ক: স্থানীয়দের দাবি, এই হাসপাতালে আগেও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

রাজ্য জুড়ে কীভাবে এমন ভুয়া ডিগ্রি ও নথির সাহায্যে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *