কোটি কোটি টাকার জমি দখল ও জালিয়াতি, ইডির জালে প্রভাবশালী প্রোমোটার অমিত গঙ্গোপাধ্যায়

কোটি কোটি টাকার জমি দখল ও জালিয়াতি, ইডির জালে প্রভাবশালী প্রোমোটার অমিত গঙ্গোপাধ্যায়

কলকাতা: কোটি কোটি টাকার জমি দখল, জাল নথি তৈরি এবং পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি জালিয়াতির মারাত্মক অভিযোগে ইডির (Enforcement Directorate) হাতে গ্রেফতার হলেন কলকাতার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তথা প্রোমোটার অমিত গঙ্গোপাধ্যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কলকাতা শাখা তাঁকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত অমিত গঙ্গোপাধ্যায় ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান।

কিভাবে চলত জমি দখলের কারচুপি? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার মালিকানাধীন মূল্যবান সম্পত্তির ওপর বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল অভিযুক্তের মূল লক্ষ্য। এর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো:

  • জাল নথিপত্র: বেআইনিভাবে বোর্ড রেজোলিউশন তৈরি, ভুয়ো বিক্রয় চুক্তি এবং তাতে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হতো।
  • জমির রেকর্ডে হেরফের: সরকারি জমির রেকর্ড ও দলিলের তথ্য পরিবর্তন করে কারচুপি করা হতো।
  • ভুয়া দেওয়ানি মামলা: সম্পত্তির প্রকৃত মালিকদের বিভ্রান্ত করতে ও আইনি জটে ফাঁকাতে ভুয়া দাবির ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হতো।
  • হুমকি ও বলপ্রয়োগ: শুধু আইনি ও নথি জালিয়াতিই নয়, আসল মালিকদের অধিকার কেড়ে নিতে তাঁদের সরাসরি হুমকি দেওয়া এবং শারীরিক বলপ্রয়োগ করার অভিযোগও উঠেছে।

নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্টতা ও ২৩টি এফআইআর: ইডি সূত্রে খবর, অভিযুক্ত অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে মোট ২৩টি FIR নথিভুক্ত রয়েছে। ইডির দাবি, বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ দেয় এই মামলাগুলি। তৃণমূল জমানায় শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও ওঠাবসা ছিল বলেও সূত্রের দাবি। অর্থ তছরুপ বা মানি লন্ডারিং মামলার সূত্র ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে মূল তদন্ত শুরু করেছিল ইডি।

ইডির পরবর্তী পদক্ষেপ: ইডির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, একের পর এক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসা প্রমাণ করে যে এটি একটি সুসংগঠিত জমি হাঙ্গরি চক্র। তবে আদালত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে। বর্তমানে ইডির মূল লক্ষ্য— কীভাবে সম্পত্তিগুলি বেআইনিভাবে তাঁর দখলে গিয়েছিল, এই চক্রে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত এবং নথিগুলির বৈধতা কতখানি, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *