দেড় কোটি টাকার ‘গোপন’ অ্যাকাউন্ট! সুদীপ্ত-শান্তনু দ্বন্দ্বে তুঙ্গে তৃণমূলের অন্দরকলহ

দেড় কোটি টাকার ‘গোপন’ অ্যাকাউন্ট! সুদীপ্ত-শান্তনু দ্বন্দ্বে তুঙ্গে তৃণমূলের অন্দরকলহ

আইএমএ-র (ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) দেড় কোটি টাকার ‘গোপন’ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও অর্থ গরমিলের অভিযোগ ঘিরে শাসকদলের দুই চিকিৎসক নেতা—প্রাক্তন বিধায়ক সুদীপ্ত রায় এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেনের সংঘাত ফের নতুন মাত্রা পেয়েছে।

অভিযোগ ও জিমার ‘গোপন’ অ্যাকাউন্ট সুদীপ্ত রায়ের দাবি, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আইএমএ-র প্যান কার্ড ব্যবহার করে ‘জার্নাল অফ দ্য ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (জিমা)-র নামে সদর দফতরকে না জানিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হতো। এই ৩ বছরে ওই অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা জমা পড়ে এবং আরবিআই-এর নিয়ম ভেঙে ২৯ লক্ষ টাকার নগদসহ মোট ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা তোলা হয়।

তদন্ত কমিটির রিপোর্টে প্রকাশ, অ্যাকাউন্টটি পরিচালনায় ‘সাইনিং অথরিটি’ ছিলেন তৎকালীন ‘জিমা’ সম্পাদক শান্তনু সেন, তাঁর স্ত্রী কাকলি সেন এবং উজ্জ্বল সেনগুপ্ত। এমনকি ১৭ লক্ষ টাকার একটি চেক যে ‘দিশা মেডিহেল্প’ সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, সেটির পেছনে থাকা ফোন নম্বরটি শান্তনু সেনেরই এবং সংস্থাটি তাঁর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

তদন্তের রিপোর্ট ও নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন আইএমএ-র অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা গিয়েছে, কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে এবং অডিটরকে অন্ধকারে রেখে এই হিসাব গোপন রাখা হয়েছিল। রিপোর্টে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এক বছর ধরে সর্বভারতীয় নেতৃত্ব কেন নিশ্চুপ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সুদীপ্ত শিবির। বিরোধীদের একাংশের মতে, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের টানাপোড়েন ও প্রভাবের কারণেই রিপোর্টটি হিমঘরে পাঠানো হয়েছে।

পাল্টা আক্রমণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শান্তনু সেন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে সম্প্রতি ধরা পড়া ভুয়ো চিকিৎসকদের বিষয়ে তিনি মুখ খুলেছেন বলেই সুদীপ্ত রায় পুরনো প্রসঙ্গ তুলে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় নিজেও বর্তমানে ভুয়ো ডাক্তার কাণ্ডে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে জমা পড়া অভিযোগের মুখে পড়েছেন।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শান্তনু সেন ও সুদীপ্ত রায় শিবিরের দ্বন্দ্বে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ—সব নিয়েই এই দুই নেতার পুরনো কোন্দল এখন আইএমএ-র দেড় কোটি টাকার গরমিল বিতর্ককে কেন্দ্র করে নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *