অ্যান্টার্কটিকায় হঠাৎই বিরাট ওজোন গহ্বর, বড় বিপদের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা!

অ্যান্টার্কটিকায় হঠাৎই বিরাট ওজোন গহ্বর, বড় বিপদের আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা!

আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবসের আবহেই অ্যান্টার্কটিকার আকাশ নিয়ে ঘনিয়েছে উদ্বেগের মেঘ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ‘কোপার্নিকাস অ্যাটমস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস’ (CAMS)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই অ্যান্টার্কটিকার ওজোন গহ্বর অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।

মূল তথ্য ও পরিস্থিতি

  • বিশাল আয়তন: গত ১২ সেপ্টেম্বর ওজোন গহ্বরটির আয়তন পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটারে।
  • গড়ের চেয়ে অনেক বেশি: স্বাভাবিক সময়ের গড়ের তুলনায় এই আয়তন প্রায় ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার বেশি।
  • দ্রুত বিস্তার: অগস্টের শেষে আয়তন ১ কোটি ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার থাকলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে এর বৃদ্ধির গতি সবাইকে চমকে দিয়েছে।

হঠাৎ এই বৃদ্ধির কারণ কী?

দক্ষিণ গোলার্ধের বসন্তকালে (আগস্ট-নভেম্বর) মেরু অঞ্চলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় ‘মেরুস্তরীয় মেঘ’ তৈরি হয়। সূর্যের আলো ফুটতেই এই মেঘে থাকা ক্লোরিন ও ব্রোমিনের মতো সক্রিয় রাসায়নিক ওজোন অণুকে দ্রুত ধ্বংস করতে শুরু করে। এ বছর দক্ষিণ মেরুর ২০ কিলোমিটার উপরে তাপমাত্রা আচমকা কমে যাওয়াতেই গহ্বরের আকার এত দ্রুত বেড়েছে।

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য: কতটা ভয়ের?

CAMS-এর ডিরেক্টর লরেন্স রুইল স্পষ্ট করেছেন যে, আয়তন সাময়িকভাবে বাড়লেও ওজোন স্তরের সর্বনিম্ন ঘনত্ব এবং মোট ঘাটতি এখনও ঐতিহাসিক গড়ের কাছাকাছিই রয়েছে। ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই গহ্বরের আয়তন রেকর্ড ২ কোটি ৯৬ লক্ষ বর্গকিলোমিটারে পৌঁছেছিল, যার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV Radiation) থেকে পৃথিবীকে ঢাল হয়ে রক্ষা করে এই ওজোন স্তর। এই স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বকের ক্যানসারসহ নানা শারীরিক ঝুঁকি বাড়ে। মানবসৃষ্ট দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল প্রভাব বুঝতে অ্যান্টার্কটিকার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *