‘আগের সরকার আটকেছিল, আমরা দিচ্ছি অধিকার!’ পিএম বিশ্বকর্মা দিবসে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: রাজ্যে প্রথমবার বড় পরিসরে পালিত হলো ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা দিবস’। ধন্যধান্য এডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক লোককল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
কী কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? দেখুন একনজরে:
- কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাঁধার অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিগত সরকার বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে বিশ্বকর্মা যোজনার বিরোধিতা করেছিল। এমনকী জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে এই প্রকল্পের কাজ না করা হয়। ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কারিগর ও সাধারণ মানুষ এতদিন কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
- ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালন: রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আজ ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসেবেও পালন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ কোটি ৬০ লক্ষ মা-বোন-দিদির অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হয়েছে।
- আয়ুষ্মান ভারতের সাফল্য: মাত্র চার মাসের এই সরকার রাজ্যে গত ১৬ আগস্ট ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করেছে। এর মধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন।
- ৫ লক্ষের বড় লক্ষ্যমাত্রা: মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আর বন্ধ প্রেক্ষাগৃহে নয়, খোলা মাঠে উৎসব হবে। আগামী এক বছরে বাংলায় অন্তত ৫ লক্ষ মানুষকে বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- সরাসরি কাজের সুযোগ: জট কাটাতে এবং দুর্নীতি রুখতে পঞ্চায়েতের সচিবদের হাতে সরাসরি অ্যাপ্রুভালের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩ হাজারের বেশি বিশ্বকর্মা আবেদন অ্যাপ্রুভ হয়ে গিয়েছে।
কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা? ছুতোর, কামার, নাপিত, রাজমিস্ত্রি, মালাকার, মূর্তিকার, মৎস্যজীবী, কিংবা হাতুড়ি-তালা-চাবি প্রস্তুতকারক—যাঁরা বংশপরম্পরায় বা নিজের দক্ষতায় হাতের কাজ করেন, তাঁদের এবার সরাসরি MSME-র মাধ্যমে ট্রেনিং দেওয়া হবে। ট্রেনিং চলাকালীন বিশেষ ভাতা প্রদান করবে সরকার।
পাশাপাশি, দেশের ‘উদ্যম পোর্টালে’ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের ৬৩ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, হস্তশিল্পীদের স্বাবলম্বী করতে এই সাবসিডি স্কিমগুলোতে আরও বেশি করে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হবে।