জোড়াফুল ফ্রিজ! ‘দল চুরি’ নিয়ে সোচ্চার রাহুল, তীব্র আক্রমণ কমিশনকে
উপনির্বাচনের আগেই চরম রাজনৈতিক উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গে। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে স্তব্ধ হয়ে গেল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মুখোমুখি লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে আপাতত দলটির নাম ও প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
‘ভোট চুরির পর এবার দল চুরি!’ তোপ রাহুলের
কমিশনের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও এনসিপি-র ভাঙনের উদাহরণ টেনে তিনি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন। রাহুলের অভিযোগ, বিজেপি ও কমিশন মিলে প্রথমে চক্রান্ত করে দল ভাঙছে, আর তারপর প্রতীক কেড়ে নিয়ে আসল দলকে নিঃস্ব করছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল লেখেন:
- “ভোট চুরি এবং সরকার চুরির পর এবার ‘দল চুরি’ গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের চরম রূপ।”
- “কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল জনগণের রায় রক্ষা করা, অথচ তারা রায় বদলে দেওয়ার চক্রান্তের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।”
- “এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার নয়; এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং অবাধ নির্বাচন চাওয়া দেশের প্রতিটি ভোটারের লড়াই।”
বিকল্প চিহ্নের খোঁজ, নজরে নন্দীগ্রাম-রেজিনগর
সামনেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে:
- শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে দুই গোষ্ঠীকেই ৩টি করে সম্ভাব্য দলের নাম এবং ৩টি করে মুক্ত (Free) প্রতীকের তালিকা জমা দিতে হবে।
- সেখান থেকেই কমিশন সাময়িকভাবে দুই শিবিরের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।
- এটি একেবারেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা; দলের আসল সাংগঠনিক মালিকানা কার, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মমতার পাশে কংগ্রেসকে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে দেখা গেছে। জোড়াফুল সাময়িকভাবে ফ্রিজ হওয়ার পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কোন নাম ও প্রতীকে লড়াইয়ে নামেন, আর ঋতব্রত শিবিরই বা কী চিহ্ন পায়— সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।