‘অভিষেকের নির্দেশেই জমা পড়ত টাকা!’ সিআইডি জেরায় বিস্ফোরক দাবি সুমিতের, ফের ৫ দিনের হেফাজত

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের বড় মোড়। আট দিনের সিআইডি (CID) হেফাজত শেষে শনিবার মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হলো তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী (PA) সুমিত রায়কে। বিচারকের নির্দেশে সুমিতসহ এই মামলায় ধৃত বাকি তিন অভিযুক্তকে আরও ৫ দিনের জন্য সিআইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে ভবানীভবন থেকে বের করে কড়া নিরাপত্তায় সুমিতকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে। সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের সরাসরি মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়।
আদালতের রায় ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সুমিত রায়কে গ্রেফতারের পর এই দুর্নীতি চক্রের গভীরে পৌঁছাতে আরও তিনজনকে জালে তোলেন গোয়েন্দারা। এদিন সুমিতের পাশাপাশি বাকি ৩ অভিযুক্তকেও মেদিনীপুর বিচারকের এজলাসে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে সিআইডির পক্ষ থেকে আরও কিছু দিন নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরার আবেদন জানানো হলে, আদালত নতুন করে ৫ দিনের সিআইডি হেফাজত মঞ্জুর করে।
| অভিযুক্তের নাম | বর্তমান অবস্থা | সিআইডি হেফাজতের সময়সীমা |
| সুমিত রায় (অভিষেকের PA) | গ্রেফতার | আরও ৫ দিন |
| অন্যান্য ৩ অভিযুক্ত | গ্রেফতার | আরও ৫ দিন |
সিআইডি জেরায় বিস্ফোরক তথ্য ও রাজনৈতিক তোলপাড়
এতদিন হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও সুমিত মুখ খুলছিলেন না বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছিল। তবে এবার সিআইডি সূত্রে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, লাগাতার জেরার মুখে বড়সড় তথ্য প্রকাশ করেছেন সুমিত।
গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, জেরার সময় সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে সুমিত জানিয়েছেন— “অভিষেকের নির্দেশেই টিএমসিপি-র (TMCP) অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা জমা পড়ত।”
সুমিতের এই তথাকথিত স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী ৫ দিনের সিআইডি হেফাজতে তদন্তকারীরা এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে ব্যাঙ্ক লেনদেনের যাবতীয় নথি ও অর্থের মূল উৎস খতিয়ে দেখছেন।