দিনদুপুরে বাগুইআটিতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি! শয্যাশায়ী যুবককে নৃশংস খুন, খালি গয়নার বাক্স ছড়ানো বিছানায়

কলকাতা: দিনদুপুরে জনবহুল বাগুইআটিতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও নৃশংস খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকায় নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হয় ৩১ বছর বয়সী শয্যাশায়ী যুবক বলরাম রাজবংশীর রক্তাক্ত নিথর দেহ। দুষ্কৃতীরা ঘর লন্ডভন্ড করে মূল্যবান গয়না ও জিনিসপত্র লুট করে চম্পট দিয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বলরাম গত দুই বছর ধরে গুরুতর অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী ছিলেন। রবিবার সকালে বাবা পেশাগত কাজে বাইরে যান, মা পরিচারিকার কাজে বের হন এবং দাদাও নিজের কর্মস্থলে চলে যান। ফলে বাড়িতে একা ছিলেন বলরাম।
দুপুরের দিকে মা কাজ সেরে বাড়ি ফিরে দেখেন, বাইরে থেকে দরজা বন্ধ। ভেতরে ঢুকতেই তিনি দেখেন মেঝেতে পড়ে রয়েছে ছেলের ক্ষতবিক্ষত দেহ। আলমারি খোলা, গয়না চুরি হয়ে গেছে এবং খালি বাক্সগুলো ছড়ানো বিছানায়। মায়ের চিত্কারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং বাগুইআটি থানায় খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনার পেছনে একাধিক রহস্যজনক দিক নজর কেড়েছে তদন্তকারীদের:
- পরিচিতদের হাত? পরিবারের পোষ্য কুকুরটিকে অন্য ঘরে আটকে রাখা হলেও ডাকাতির সময় সেটি একটাবারও ডাকেনি। প্রতিবেশীরাও কোনো চিৎকার শুনতে পাননি।
- দরজা ও আলমারির চাবি: দুষ্কৃতীরা আলমারির লক ভেঙেছে নাকি আগের থেকেই তাদের কাছে চাবি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাগুইআটি থানার পুলিশ রঘুনাথপুর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেবল ডাকাতির উদ্দেশ্যেই খুন, নাকি নেপথ্যে পুরোনো শত্রুতা রয়েছে—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।