৪ মাসেই ধ্বংসের মুখে তৃণমূলের কর্মচারী ফেডারেশন! নেপথ্যে অভিষেকের ‘কর্পোরেট’ নীতি?

৪ মাসেই ধ্বংসের মুখে তৃণমূলের কর্মচারী ফেডারেশন! নেপথ্যে অভিষেকের ‘কর্পোরেট’ নীতি?

বিধানসভা ভোটের মাত্র চার মাসের মধ্যেই চরম অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। যে সংগঠন একসময় রাজ্য প্রশাসনের অলিন্দে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছিল, আজ তা কার্যত নিষ্ক্রিয় ও ‘অভিভাবকহীন’। সংগঠনের এই করুণ দশার জন্য অন্দরের প্রবীণ নেতারা সরাসরি আঙুল তুলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ক্যামাক স্ট্রিটের ‘কর্পোরেট’ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকে।

কীভাবে শুরু হলো ভাঙন?

সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মনোজ চক্রবর্তী সহ বর্ষীয়ান নেতাদের দাবি, সংগঠনের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে:

  • অভিষেকের একনায়কতন্ত্র: মৃগেন মাইতি বা মঙ্গলময় ঘোষদের মতো প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের প্রয়াণের পর সংগঠনের স্বাভাবিক চরিত্র বদলে ফেলা হয়। ট্রেড ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা না-থাকা স্বত্বেও মানস ভুঁইয়া ও প্রতাপ নায়েকদের শীর্ষ নেতৃত্বে বসানো হয়।
  • ভয় ও হুমকির সংস্কৃতি: কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই বর্ষীয়ান কর্মীদের পুরুলিয়া, দার্জিলিং বা বর্ধমানের মতো জায়গায় শাস্তিমূলক বদলি করা হতো। তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে গিয়েও লাভ হয়নি; স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হতো, “সবটাই ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশ।”
  • ডিএ ইস্যু এড়িয়ে যাওয়া: কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিকে তোয়াক্কা না করে বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে রাখা হয়, যার ফলে সাধারণ কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নেন।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের অন্তর্ধান

ভোটের পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার নেয়। দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ায় কর্মচারী সংগঠনটির অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। মানস ভুঁইয়া দল ছেড়েছেন এবং প্রতাপ নায়েক উত্তরবঙ্গে বদলি হয়ে গেছেন। সংগঠনের এই অভিভাবকহীন দশায় কোনো শিবিরই এটিকে চাঙ্গা করতে এগিয়ে আসেনি।

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়

অন্য দিকে, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্য বীমা ২ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা এবং ২০ শতাংশ ডিএ ঘোষণার মতো বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ করেছেন। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির প্রভাব দ্রুত বাড়ছে।

বাকি সব কর্মচারী সংগঠন যখন নিজেদের দাবি নিয়ে সক্রিয়, তখন একদার শক্তিশালী তৃণমূলের ফেডারেশন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। প্রবীণ নেতৃত্বের আক্ষেপ—কর্মীদের আবেগ ও নীচুতলার নেতাদের উপেক্ষা করে অভিষেকের একনায়কত্বই আজ সংগঠনকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *