অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে হুলুস্থুল মালদায়! পুলিশের সামনে হাতজোড় করে কান্না মহিলাদের

অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে হুলুস্থুল মালদায়! পুলিশের সামনে হাতজোড় করে কান্না মহিলাদের

মালদা: নতুন সরকার আসার পর রাজ্যজুড়ে চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’। কিন্তু প্রকল্পের টাকা পাওয়া নিয়ে এবার চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হলো মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লক এলাকায়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রতিশ্রুত ৩,০০০ টাকার দাবিতে ব্লক অফিসে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হলো একাধিক যোগ্য মহিলাকে। শেষে পুলিশের সামনে হাতজোড় করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আবেদনকারীরা।

📱 ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রান্তি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, টাকা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে নির্দিষ্ট দিনে ব্লক অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কিন্তু পরে জানা যায়, সেই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল।

বিজ্ঞপ্তি সত্যি ভেবে সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লক অফিসে ভিড় জমান বহু মহিলা। তাঁদের অভিযোগ:

  • অনেকেই প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও পরের কিস্তির টাকা পাননি।
  • আবার বহু যোগ্য মহিলা এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের একটি কিস্তির টাকাও অ্যাকাউন্টে পাননি।

🔒 বন্ধ দরজার পেছনে বন্দি গৃহবধূরা!

ব্লক অফিসে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে মহিলারা ভেতরে গেলে এক অস্থায়ী কর্মী তাঁদের নিচের তলায় আটকে রেখে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন! সরকারি কর্মচারীদের এমন অসংবেদনশীল আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত মহিলারা।

🚔 ঘটনাস্থলে পুলিশ ও আবেগঘন দৃশ্য

খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ব্লক অফিসে এসে পৌঁছায় এবং আটকে থাকা মহিলাদের উদ্ধার করে। পুলিশ পৌঁছাতেই চরম ক্ষোভে ও কষ্টে তাদের সামনে হাতজোড় করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলারা। দ্রুত প্রকল্পের টাকা মেটানো ও হয়রানি বন্ধের আকুল আবেদন জানান তাঁরা।

😠 প্রশাসনের ভূমিকায় বাড়ছে ক্ষোভ

পরবর্তী সময়ে বিডিও ব্লক অফিসে আসলেও অভিযোগকারী মহিলাদের সঙ্গে দেখা করেননি বলে জানা গিয়েছে। একদিকে বকেয়া টাকার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে সরকারি কর্মীদের হেনস্থা ও বিডিও-র উদাসীনতা— সব মিলিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুরে ক্ষোভের আগুন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *