‘অধ্যাপক বদলি’ বিলে তীব্র ক্ষোভ! বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় রাজ্যপালের দরবারে শিক্ষাবিদরা

‘অধ্যাপক বদলি’ বিলে তীব্র ক্ষোভ! বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় রাজ্যপালের দরবারে শিক্ষাবিদরা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাস হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ ঘিরে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের পারদ চড়ছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করার ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়েছে সরকার। সরকারি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে এবার সরাসরি রাজ্যপাল আর. এন. রবির দ্বারস্থ হলেন রাজ্য ও দেশের একাধিক প্রবীণ শিক্ষাবিদ।

শিক্ষাবিদদের মূল আপত্তি ও উদ্বেগ

রাজ্যপালকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে শিক্ষাবিদরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বদলি নীতি কার্যকর হলে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • স্বায়ত্তশাসন বিনষ্ট: বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত স্বাধীনতা (Autonomy) সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে।
  • গবেষণায় আঘাত: হুটহাট অধ্যাপক বদলির ফলে উচ্চতর গবেষণা এবং পিএইচডি (PhD) রত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
  • প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্বে সংকট: ঘন ঘন কর্মী ও শিক্ষক পরিবর্তনের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।

বিধানসভায় বিল পাসের প্রেক্ষাপট

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে পেশ করা হয়েছিল ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ড) বিল ২০২৬’। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ১৭১টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ১৫টি ভোট।

দুই পক্ষের যুক্তি

  • সমর্থকদের দাবি: একাংশের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অপ্রয়োজনীয় দলীয় রাজনীতি বন্ধ করতে এবং পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই বদলি নীতি প্রয়োজন।
  • বিরোধীদের বক্তব্য: শিক্ষাবিদদের স্পষ্ট যুক্তি— বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি নীতি চাপিয়ে দিলে পেশাগত স্বাধীনতা নষ্ট হয় এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ব্যাহত হয়। তাই অবিলম্বে এই বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষাবিদদের এই চিঠির পর এখন বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রাজভবন এই বিল নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষা মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *