বদলে যাচ্ছে কলকাতার দুর্গাপুজো! মহাষ্টমীতে মদ বন্ধ, ডিজে-তে কোপ— আর কী কী নতুন নিয়ম?

বদলে যাচ্ছে কলকাতার দুর্গাপুজো! মহাষ্টমীতে মদ বন্ধ, ডিজে-তে কোপ— আর কী কী নতুন নিয়ম?

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার রাজ্যের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোতেও আসতে চলেছে একাধিক প্রশাসনিক রদবদল। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিমার উচ্চতা, মণ্ডপ উদ্বোধন, বিসর্জনের শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে মদ বিক্রির নিয়মেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন।

১১ ফুটেই সীমাবদ্ধ প্রতিমা, সাবেকিয়ানায় ঝোঁক বিদ্যুতের তার ও রাস্তার পরিকাঠামোগত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এ বছর অধিকাংশ প্রতিমার উচ্চতা ১১ ফুটের মধ্যে রাখা হচ্ছে। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সাংস্কৃতিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যেখানে প্রায় ১৫০টি থিমের প্রতিমা তৈরি হয়েছিল, এবার তা কমে মাত্র ১০-১২টিতে দাঁড়িয়েছে। থিমের জাঁকজমক কমিয়ে মৃৎশিল্পীরা এখন সাবেকি মুখের প্রতিমা তৈরিতেই বেশি জোর দিচ্ছেন।

মহালয়ার আগে মণ্ডপ উদ্বোধন নয় আগের বছরগুলোতে মহালয়ার বেশ ক’দিন আগেই শহরের বহু বড় পুজোর ফিতে কেটে দেওয়া হতো। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার পরেই কেবল পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করা যাবে। ফলে পুজোর কেনাকাটা ও আগাম প্যান্ডেল দর্শনের অভ্যাসে বদল আসতে চলেছে।

রেড রোডের বদলে ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার মেগা শো বিগত বছরগুলির দশমীর পরবর্তী রেড রোড কার্নিভালের বদলে এবার মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে রাজ্য সরকার। লোকশিল্পী, ঢাকি, ড্রোন শো এবং আতশবাজির প্রদর্শনীর পাশাপাশি এই অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করা হবে।

মহাষ্টমীতে রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি বন্ধ উৎসবের মূল দিন মহাষ্টমীতে (১৯ অক্টোবর) রাজ্যজুড়ে বার ও মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পুজোর আড্ডা ও উদযাপনে এবার নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।

ডিজে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, অগ্রাধিকার ঢাকের শব্দে শব্দদূষণ রোধ এবং সনাতন ঐতিহ্য বজায় রাখতে পুজো ও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে (DJ) বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী বক্স ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে ঢাক বা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে কোনও বাধা নেই। পাশাপাশি রাস্তা ও জাতীয় সড়ক সচল রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষায় থিম পুজোয় সতর্কতা থিম পুজো চালু থাকলেও মণ্ডপসজ্জা বা প্রতিমার নকশায় যাতে সনাতন ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত না লাগে, সে বিষয়ে ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব উদ্যোগে কড়া ভবানীপুরের পুজো কমিটি সরকারি বিধিনিষেধের পাশাপাশি কিছু পুজো কমিটি নিজেদের মতো কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি মণ্ডপে মদ্যপ দর্শকদের প্রবেশ রুখতে ব্রেথঅ্যানালাইজার ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে।

প্রতিমার রূপ থেকে বিসর্জনের নিয়মবিধি— সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো এক নতুন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *