ভোটার তালিকায় নাম তুলতে লাগবে ১২ বছর? সুপ্রিম কোর্টের দরজায় নির্বাচন কমিশন!

ভোটার তালিকায় নাম তুলতে লাগবে ১২ বছর? সুপ্রিম কোর্টের দরজায় নির্বাচন কমিশন!

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে এবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল নির্বাচন কমিশন। বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকাভুক্তির আবেদন নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালগুলির যে সময় লাগছে, তাতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে। বর্তমান গতিতে কাজ চললে সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হতে লেগে যেতে পারে প্রায় ১২ বছর (১৪৬ মাস)। এই জট ছাড়াতেই রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে কমিশন।

সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া সাম্প্রতিক এক হলফনামায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে শুনানি শুরু হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালগুলিতে ১,২৬,১৯৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ২৫,২৩৮টি মামলা মিটছে। কিন্তু গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৭,০৫,২৩৫টি আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে।

কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালগুলি যদি সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করে, তাহলেও এই বিপুল পরিমাণ আবেদনের সমাধান হতে ১৪৬ মাস সময় লাগবে। তাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসন ভিত্তিক অন্তত একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে।

৩৮ লক্ষ আবেদনের অন্দরের হিসেব এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজনের জন্য মোট ৩৮.৩১ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল:

  • ২২.২১ লক্ষ আবেদন: নাম বাদ পড়া ভোটাররা নিজেদের নাম পুনরায় যুক্ত করতে আবেদন করেছেন।
  • ১৬.১০ লক্ষ আবেদন: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে জমা পড়েছে।

৯০% ভোটারই ফেরত পাচ্ছেন নাম মামলার দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ১.২৬ লক্ষের বেশি মামলার মধ্যে ১,১৩,৯৪৩টি ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্পত্তিকৃত আপিলের ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে সাধারণ ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাবের অভিযোগ খারিজ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের দাবি ছিল, বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার কারণে ভোটের ফলে প্রভাব পড়েছে। কমিশন পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, বেশ কিছু আসনে জয়ী প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেশি থাকলেও তা সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি। কমিশন উদাহরণ টেনে দেখিয়েছে, শাসকদলের প্রার্থীরাও এমন আসনে জয়ী হয়েছেন যেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *