‘মাহি’ সেজে লোহাগাদ ফোর্টে ডাক! কেতন হত্যারহস্যে ৫০৫৩ পাতার চার্জশিটে ছক ফাঁস

‘মাহি’ সেজে লোহাগাদ ফোর্টে ডাক! কেতন হত্যারহস্যে ৫০৫৩ পাতার চার্জশিটে ছক ফাঁস

সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি করা হয়েছিল এক ছদ্মপরিচয়। ইনস্টাগ্রামে নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মাহি’। সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই শুরু হয় কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে আলাপচারিতা। কিন্তু সেই ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের আড়ালে ছক কষা হচ্ছিল এক মারাত্মক ষড়যন্ত্রের, যার চূড়ান্ত পরিণতি লোহাগাদ ফোর্টে।

পুণে পুলিশ কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় আদালতে ৫,০৫৩ পাতার একটি বড় চার্জশিট দাখিল করেছে। চার্জশিটে উঠে এসেছে এই রোমহর্ষক ছকের বিস্তারিত তথ্য। পুলিশের দাবি, সিয়া গয়াল, চেতন চৌধরী এবং রিতেশ মিলে ‘মাহি’ নামের ওই ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি তৈরি করেছিলেন। নিজেদের পরিচিত এক মহিলার ছবি ব্যবহার করে কেতনের আস্থা অর্জন করা হয় এবং তাঁকে বিশ্বাস করানো হয় যে ‘মাহি’ আসলে সিয়ার বান্ধবী।

সারপ্রাইজ পার্টির ফাঁদ তদন্তকারীদের মতে, পুরো চক্রান্তের মূল লক্ষ্য ছিল কেতনকে একটি নির্দিষ্ট নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া। সেই অনুযায়ী গত ১৮ জুন কেতনকে লোহাগাদ ফোর্টে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাঁকে বলা হয়েছিল, সিয়াকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য সেখানে একটি বিশেষ জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করা হচ্ছে। বন্ধুর বার্থডে উদযাপনের আনন্দে কেতনও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে লোহাগাদ ফোর্টের দিকে রওনা দেন।

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও ফরেন্সিক সাফল্য ঘটনাটি ঘটার পরই অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলতে ওই ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ডিলিট করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের ডিজিটাল ফরেন্সিক টিম উদ্ধার করে ফেলে সমস্ত মুছে ফেলা চ্যাট। কেতনকে কীভাবে এবং কতখানি পরিকল্পনা করে ফোর্টে নিয়ে আসা হয়েছিল—তার প্রতিটি ডিজিটাল প্রমাণ এখন তদন্তকারীদের হাতে।

বিচারাধীন মামলা অবশ্য চার্জশিটে থাকা সমস্ত দাবি ও অভিযোগই বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম আইডি, উদ্ধার হওয়া সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট এবং ১৮ জুনের চূড়ান্ত ঘটনার যোগসূত্র কতটা তা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *