‘অভিষেকের কথায় নয়, কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই টাকা জমা!’ সিআইডি-র দাবির মুখে বড় বয়ান সুমিতের আইনজীবীর

‘অভিষেকের কথায় নয়, কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই টাকা জমা!’ সিআইডি-র দাবির মুখে বড় বয়ান সুমিতের আইনজীবীর

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়া নিয়ে দেখা দিল নতুন মোড়। সিআইডি-র দাবিকে নস্যাৎ করে সুমিতের আইনজীবী অগ্নিশ বসু স্পষ্ট জানালেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নয়—দলের কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতেন সুমিত রায়।

কী দাবি সুমিতের আইনজীবীর? রবিবার সিআইডি হেফাজতে থাকা সুমিত রায়ের সঙ্গে দেখা করে এসে তাঁর আইনজীবী জানান, দলের সংবিধান অনুসারেই যাবতীয় আর্থিক বিষয় দেখভালের দায়িত্ব থাকে একমাত্র কোষাধ্যক্ষের ওপর। কোষাধ্যক্ষ ছাড়া অন্য কারও দলের আর্থিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে কোষাধ্যক্ষ যখন যেমন নির্দেশ দিতেন, সুমিত সেই অনুযায়ীই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেছেন।

টাকা কি বৈধ? আইনজীবী অগ্নিশ বসু স্পষ্ট জানান, যে অর্থ দলীয় ফান্ডে জমা করা হয়েছে, তা পুরোটাই বৈধ। এতে বেআইনি কিছুই নেই। প্রতি বছর নিয়ম মেনে ফান্ডের অডিট করানো হয় এবং সেই অডিট রিপোর্ট নিয়মিত আয়কর দফতর ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

কে এই ‘টি ঘোষ’? তদন্তে সিআইডি দাবি করেছিল, জেরায় সুমিত ‘টি ঘোষ’ নামে এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যিনি টাকা দিতেন। এ নিয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘টি ঘোষ’ কোনো ক্যাশিয়ার ছিলেন না, তিনি ছিলেন দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ প্রয়াত তমোনাশ ঘোষ। ফলতার এই সাবেক বিধায়ক ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অরূপ বিশ্বাসের আগে তিনিই তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্বে ছিলেন।

সিআইডি-র তদন্ত ও প্রেক্ষাপট: সিআইডি সূত্রে খবর, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের শালবনি জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের যুব তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় প্রায় ৭ কোটি টাকা জমার তথ্য ওঠে আসে। সিআইডি দাবি করেছিল, অভিষেকের নির্দেশে সুমিত ওই টাকা জমা করতেন। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে আইনজীবীর মূল বার্তা—তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ তমোনাশ ঘোষ এবং পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশেই সমস্ত অর্থ জমাদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *