‘ভোটের দিন খুন হতে পারি!’ রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই বোমা ফাটালেন হুমায়ুন কবীর

‘ভোটের দিন খুন হতে পারি!’ রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই বোমা ফাটালেন হুমায়ুন কবীর

রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই বিস্ফোরক নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অডিও ক্লিপ বিতর্কে বহরমপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার ঠিক আগেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি। বহরমপুরের ফ্ল্যাটে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিধায়কের স্পষ্ট দাবি—আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে, এমনকি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কেন এমন আশঙ্কা করছেন? হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, উপনির্বাচনের দিন রেজিনগরে ব্যাপকভাবে ভোট লুঠের চক্রান্ত করা হচ্ছে। আর সেই অনিয়ম তিনি রুখতে যাবেন বলেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

সাংবাদিক বৈঠকে সুর চড়িয়ে বিধায়ক বলেন, “৬ অক্টোবর আমার জীবনের শেষ দিন হতে পারে। কিন্তু কোনো বুথেই ভোট লুঠ হতে দেব না। আমার ওপর গুলি চললেও আমি ময়দানে থাকব এবং রুখে দাঁড়াব।” পুলিশ বা কোনো দুষ্কৃতী যদি সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বাধা দেয়, তবে তিনি নিজে সামনে থেকে তার মোকাবিলা করবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেখানে হুমায়ুন কবীরের গড়া দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ।

সম্প্রতি রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর থেকেই এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। সাইফুলকে ওই আসনে ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে খবর। হুমায়ুনের পাল্টা তোপ, চক্রান্ত করে ভোট কাটাকুটি চালিয় তাঁর দলের প্রার্থীকে হারানোর পথ প্রস্তুত করা হচ্ছে। উপনির্বাচনের মুখে বিধায়কের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও প্রাণহানির আশঙ্কায় বর্তমানে সরগরম রেজিনগরের রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *