সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই ‘অপরাধ’! হিন্দমোটরে পুলকার চালকদের তাণ্ডব, রক্তাক্ত বাবা
হুগলি: স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছরের সন্তান কেন অন্য ছাত্রদের হাতে মার খাচ্ছে? পুলকার চালকের কাছে কেবল এটুকুই জানতে চেয়েছিলেন এক বাবা। আর তাতেই মারাত্মক ক্ষুব্ধ চালক ও মালিকপক্ষ! অভিযোগের দায় এড়াতে প্রথমে বচসা, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সদলবলে হামলা। পুলকার চালক ও তার সঙ্গীদের হামলায় রক্তাক্ত হলেন শিশুর বাবা ও তাঁর বন্ধুরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির হিন্দমোটরের নন্দনকানন এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত ব্যক্তির নাম বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। তাঁর আট বছরের সন্তান নন্দনকানন এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে। প্রতিদিন পুলকারেই যাতায়াত তার। গত কয়েকদিন ধরে শিশুটি বাড়িতে জানায়, গাড়িতে অন্য কয়েকজন ছাত্র তাকে নিয়মিত মারধর করছে। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে সোমবার পুলকার চালককে বিষয়টি জানান বিপ্লববাবু।
অভিযোগ, চালক নিরাপত্তার দায় নিতে অস্বীকার করে উল্টে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় সকালে ঝামেলা মেটার আবহ তৈরি হলেও আসল ঘটনা ঘটে সন্ধ্যায়।
ক্লাবের সামনে অতর্কিত হামলা: সোমবার সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পুলকারের মালিক সনু ও চালকের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল নন্দনকাননের এক ক্লাবের সামনে বিপ্লববাবু ও তাঁর বন্ধুদের ওপর চড়াও হয়। অতর্কিত এই হামলায় বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের নাক ফেটে যায়। তাঁর বন্ধু হেমন্ত দাসের মাথা ফাটে। বাঁচাতে এসে আহত হন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দাও। আহতদের উদ্ধার করে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বেআইনি গাড়ি ও পুলিশি পদক্ষেপ: ঘটনার পর উত্তরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন বিপ্লববাবু জানান, সামান্য অভিযোগ জানানোর জন্য এই ধরনের মারধর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর আরও গুরুতর দাবি, এলাকা জুড়ে যে সমস্ত পুলকার চলছে, সেগুলির সিংহভাগেরই রেজিস্ট্রেশন, বিমা বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ সার্টিফিকেট নেই—সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গাড়িগুলি চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ পেতেই তদন্তে নেমেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই এক মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে যুক্ত বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে।