‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্পে কোটি টাকার দুর্নীতি! লোপাট ডাক্তারি সরঞ্জাম, কড়া অ্যাকশনে স্বাস্থ্য ভবন

‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্পে কোটি টাকার দুর্নীতি! লোপাট ডাক্তারি সরঞ্জাম, কড়া অ্যাকশনে স্বাস্থ্য ভবন

করোনা মহামারী চলাকালীন রাজ্যজুড়ে চালু হওয়া সরকারি টেলি-মেডিসিন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সরঞ্জাম লোপাটের নজিরবিহীন অভিযোগ উঠল। রাজ্যের অন্তত ৬৪টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এই সমস্ত মূল্যবান পরিকাঠামো গায়েব হয়ে গিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য ভবন ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার গাম্ভীর্য বিচারে সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) অবিলম্বে স্থানীয় থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, যে সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ওই সরঞ্জামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের বেতন থেকে ক্ষতির টাকা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

কীভাবে সামনে এল এই বিশাল তছরুপ?

করোনাকালে গ্রামীণ মানুষকে ঘরে বসেই মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ নামের টেলি-মেডিসিন প্রকল্প চালু করা হয়। কেন্দ্রীয় অনুদানের ‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন’ এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের কোটি কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল হাজার হাজার কম্পিউটার, মনিটর, ইন্টারনেট কানেকশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সারপ্রাইজ ভিজিটে গেলে আসল সত্য সামনে আসে। দেখা যায়, বহু জায়গায় গোটা ব্যবস্থার অস্তিত্বই মুছে গেছে—

  • কোথাও কম্পিউটার মনিটর উধাও।
  • কোথাও ইউপিএস থাকলেও ভেতর থেকে দামি ব্যাটারি ও এমসিবি (MCB) খুলে নেওয়া হয়েছে।
  • একাধিক কেন্দ্রে মূল চিকিৎসা সামগ্রীর কোনো হদিশই নেই।

প্রভাবিত জেলা ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ:

উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই অনিয়মের জাল ছড়িয়ে রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই তছরুপের ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্য খাতে যে ৮২৯ কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গকে বরাদ্দ করেছিল, তার একটি বড় অংশ এই প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য ভবনের স্পষ্ট বার্তা— যে কেন্দ্রগুলিতে সরঞ্জাম উধাও হয়েছে, সেখানকার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক (BMOH), কমিউনিটি হেলথ অফিসার কিংবা নার্সদের এর দায় নিতে হবে। খোয়া যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য হিসাব করে সরাসরি তাঁদের বেতন থেকে সেই অর্থ কেটে নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *