৭ দিনের মধ্যেই খুলবে হরমুজ প্রণালী! কিন্তু ট্রাম্পের সামনে কী বড় শর্ত রাখল ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝেই তৈরি হলো এক বড় কূটনৈতিক মোড়। বিশ্ব অর্থনীতি ও তেল পরিবহণের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ মাত্র ৭ দিনের মধ্যে খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। তবে এর বিনিময়ে মার্কিন সরকারের সামনে রাখা হয়েছে একগুচ্ছ কড়া শর্ত। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক প্রবীণ আধিকারিক আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দেওয়ার এই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আমেরিকার সামনে ইরানের কড়া শর্ত ইরানের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে আগে দুটি প্রধান পদক্ষেপ করতে হবে: ১. ইরান ও সংলগ্ন অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক চাপ কমাতে হবে।
২. ইরানের প্রধান সমুদ্র বন্দরগুলির ওপর যে নৌ-অবরোধ চাপানো হয়েছে, তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
এর পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসকে স্পষ্ট করতে হবে যে তারা কোনো সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চায়। এই বার্তাটি ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন স্তব্ধ বিশ্ববাজার? হরমুজের গুরুত্ব হরমুজ প্রণালীকে গোটা বিশ্বের তেল পরিবহণের রক্তনালী বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও পাশ্চাত্যে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রধান রাস্তা এটি। এই জলপথে সংঘাত বা জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলেই বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে।
নিউ ইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমানে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় অংশ নিতে নিউ ইয়র্কে রয়েছে ইরানের প্রতিনিধি দল। জানা গেছে, তাদের কাছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক না হলেও, মধ্যস্থতাকারীদের হাত ধরে পর্দার আড়ালে আলোচনা কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।