‘মমতার লড়াই অস্বীকার করা যায় না…’ তৃণমূল ভেঙে পড়তেই সঙ্গত্যাগীদের তোপ অগ্নিমিত্রার!

‘মমতার লড়াই অস্বীকার করা যায় না…’ তৃণমূল ভেঙে পড়তেই সঙ্গত্যাগীদের তোপ অগ্নিমিত্রার!

তৃণমূল কংগ্রেসের চরম সঙ্কটের দিনে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তবে আক্রমণ শানালেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত সংগ্রামের কথা স্বীকার করতে ভুললেন না তিনি।

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নেত্রীর সঙ্গত্যাগ করার হিড়িক। একের পর এক বিধায়ক-সাংসদ নতুন পথ বেছে নিচ্ছেন। এই আবহে মমতার হাত ছেড়ে যাওয়া নেতাদের সরাসরি ‘সুবিধাবাদী’ বলে নিশানা করেছেন অগ্নিমিত্রা। প্রশ্ন তুলেছেন রাজনীতির নীতি ও আনুগত্য নিয়ে।

অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, “রাজনীতিতে লয়্যালটি বা আনুগত্য কোথায় গেল? আজ দল ক্ষমতায় নেই বলে এতদিন ধরে সুবিধা নেওয়া মানুষগুলো হাত ছেড়ে চলে গেলেন? যেখানে সুবিধা পাব, সেখানেই চলে যাব— এটা তো সুবিধাবাদী মনোভাব!”

বিরোধী শিবিরের নেতা হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে মর্যাদা দিয়ে অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে লড়াইটা করেছিলেন, তা অস্বীকার করা যায় না।” কিন্তু একই সঙ্গে তৃণমূলের এই আচমকা পতনের পেছনে দলের অতিরিক্ত দম্ভ ও ঔদ্ধত্যকে দায়ী করেছেন তিনি।

তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক মহলের জন্য একটি বড় শিক্ষা বলে মনে করছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, “আমরা বলতাম অস্তিত্ব থাকবে না, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে তৃণমূল শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়াবে, তা ভাবতেও পারিনি। ঔদ্ধত্য, নিজেকে সর্বোত্তম মনে করা এবং সাধারণ মানুষকে সম্মান না দেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে— এই ঘটনা থেকে সেটাই শেখার আছে।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলে ভাঙন ধরেছে ঘাসফুল শিবিরে। যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি ভরসা রেখে বলেছেন যে এই সংকট থেকেও মমতা উত্তরণ ঘটাতে পারবেন। তবে ঋতব্রত গোষ্ঠী ও মূল দলের লড়াইয়ে যখন দলীয় প্রতীক পর্যন্ত হাতছাড়া, তখন বিরোধী শিবিরের অগ্নিমিত্রা পালের মুখে মমতা-ত্যাগীদের ‘সুবিধাবাদী’ আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *