প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক! কেন্দ্রের বড় নির্দেশ

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথার ওষুধ কিনে নেওয়ার অভ্যাসে এবার পুরোপুরি লাগাম টানছে কেন্দ্র। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যানডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) নতুন নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ বিক্রেতা নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথার ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন না।
কেন এই কড়াকড়ি? চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা শরীরে আশঙ্কাজনক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে:
- ব্যথার ওষুধের বিপদ (NSAIDs): চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে বা বারবার ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।
- অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার: সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে জীবাণু ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, যাকে বলে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (AMR)। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রকৃত প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না।
পুরোনো নিয়মেই কঠোর প্রয়োগ উল্লেখ্য, এই নির্দেশিকায় নতুন কোনো ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়নি বা নতুন নিয়ম তৈরি হয়নি। ‘ড্রাগস রুলস ১৯৪৫’ অনুযায়ী বেশিরভাগ NSAID রয়েছে ‘Schedule H’ এবং অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে ‘Schedule H1’ ক্যাটাগরিতে। সরকারের লক্ষ্য হলো—বিদ্যমান আইনগুলোই এখন থেকে কঠোরভাবে কার্যকর করা।
চিকিৎসক ও দোকানদারদের নির্দেশিকা:
- ফার্মাসিস্টদের জন্য: প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনোভাবেই নির্দিষ্ট ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি উৎসাহিত করা যাবে না।
- চিকিৎসকদের জন্য: রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও কিডনির ঝুঁকি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজে এবং কম সময়ের জন্য ব্যথার ওষুধ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইরাল ইনফেকশনে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক না লেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- হাসপাতালের জন্য: ওষুধ ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং সঠিক প্রেসক্রিপশন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
জরুরি সতর্কবার্তা: বারবার জ্বর বা ব্যথা ফিরে এলে দোকান থেকে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খাওয়া অবিলম্বে বন্ধ করুন। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় সর্বদা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।