থানায় ঢুকে মহিলা O.C.-র কলার ধরে টানাটানি! দুর্গাপুরে তাণ্ডব চালিয়ে গ্রেপ্তার আইনজীবী

দুর্গাপুর: থানার ভেতরে ঢুকে চরম ধৃষ্টতা! এক মহিলা পুলিশ অফিসারের জামার কলার চেপে ধরা, শ্লীলতাহানি এবং পুলিশ কর্মীদের মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক আইনজীবী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানায়। ধৃত আইনজীবীর নাম সৌভিক রায়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে নিউ টাউনশিপ থানায় যান আইনজীবী সৌভিক রায়। থানায় ঢুকেই তিনি ওসির সঙ্গে দেখা করার জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। সেই সময় কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁকে জানান যে ওসি মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন, তাই তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। অভিযোগ, সাধারণ এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে সজোরে চড় মারেন সৌভিক।
মহিলা ওসির সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার: থানার ভেতরে গোলমালের শব্দ শুনে ছুটে আসেন থানার মহিলা ওসি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেই তাঁর ওপর চড়াও হন সৌভিক। অভিযোগ, মহিলা ওসির জামার কলার ধরে টানাটানি করেন তিনি এবং তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়। শুধু তা-ই নয়, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আদালতের নির্দেশে ১৪ দিনের জেল হেফাজত: ঘটনার পরই সৌভিক রায়কে গ্রেপ্তার করে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ দিন আদালতে ধৃত আইনজীবীর পক্ষে সওয়াল করতে কোনো আইনজীবীই এগিয়ে আসেননি।
বার অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা: আইনজীবীর এই চরম অসভ্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশন। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কল্লোল ঘোষ জানান, “এটি অত্যন্ত জঘন্য একটি কাজ। ওই ব্যক্তির কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। উনি একসময় বারের সদস্য ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে আর নেই।” তিনি আরও জানান, ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আগেও বেশ কিছু অসামাজিক কাজের অভিযোগ উঠেছিল।