‘শীঘ্রই সমঝোতা হবে!’ ট্রাম্প-জ়েলেনস্কি বৈঠকের পর তোলপাড় বিশ্বরাজনীতি

চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কি অবশেষে থামতে চলেছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সভার ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর তেমনই এক বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেন— দুই পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চায় এবং শীঘ্রই তাদের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি হতে চলেছে।
‘শীঘ্রই ঘটছে কিছু একটা’, ইঙ্গিত ট্রাম্পের জ়েলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, উভয় দেশই দ্রুত সংঘাত মেটানোর পথ খুঁজছে। ট্রাম্পের কথায়, “দুই পক্ষই চায় যুদ্ধটা শেষ হোক। বহু মানুষের প্রাণ যাচ্ছে, যা কেউ চায় না।” তবে সম্ভাব্য সেই সমঝোতার মূল শর্তগুলি ঠিক কী, তা এখনই খোলসা করতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কেবল জানিয়েছেন, “কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে” এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
শীতের আগেই যুদ্ধবিরতির আর্জি জ়েলেনস্কির ট্রাম্পের সঙ্গেই সুর মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিও এই বৈঠককে অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগামী শীতকাল আসার আগেই রাশিয়ার এই অর্থহীন যুদ্ধের অবসান চাইছে কিয়েভ ও ওয়াশিংটন। উত্তেজনার পারদ কমিয়ে কূটনীতির পথ প্রশস্ত করতেই তাঁদের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কূটনীতির মাঝেও সামরিক প্রস্তুতি একদিকে যখন শান্তি চুক্তির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক সংঘাতও চরমে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়া ও ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে, মস্কোর একাধিক তেল শোধনাগার ও বহুতলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর কিয়েভও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উৎপাদনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জ়েলেনস্কির স্পষ্ট কথা— রাশিয়া যদি আলোচনার পথ ত্যাগ করে শীতকালেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তবে এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষা করবে।