‘থানায় ঢোকার মুখেই মেরে মুখ ফাটিয়ে দিল!’ পুলিশকে ‘দর্শক’ বানিয়ে তাণ্ডব মুকুন্দপুরে, উত্তপ্ত রাজনীতি

‘থানায় ঢোকার মুখেই মেরে মুখ ফাটিয়ে দিল!’ পুলিশকে ‘দর্শক’ বানিয়ে তাণ্ডব মুকুন্দপুরে, উত্তপ্ত রাজনীতি

কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটল। মিছিল চলাকালীন হামলা, ভাঙচুর ও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। থানা চত্বরেই হামলার মুখে পড়েন প্রাক্তন আইপিএস তথা প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।

উত্তেজনার সূত্রপাত ও মিছিলে হামলা সম্প্রতি যাদবপুর, মুকুন্দপুর ও বাঘাযতীন এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল এবং প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকালে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। পূর্ব যাদবপুর থানায় স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুকুন্দ ভবনের সামনে তৃণমূল কর্মীরা জড়ো হতেই উত্তেজনা শুরু হয়।

অভিযোগ, মিছিল শুরু হওয়ার মুখেই একদল দুষ্কৃতী মিছিল লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকে। তাঁদের মূল নিশানায় ছিলেন তৃণমূলের আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া সেল প্রধান উপাসনা চৌধুরী। বাধা ও বিক্ষোভ উপেক্ষা করে মিছিল কিছুটা এগোতেই দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

বাড়িতে তাণ্ডব ও থানায় রক্তাক্ত প্রাক্তন বিধায়ক উপাসনা চৌধুরীর অভিযোগ, “বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা আমাদের ওপর নারকীয় হামলা চালিয়েছে। মিছিলে মারধরের পাশাপাশি আমার মুকুন্দপুরের বাড়িতে চড়াও হয়ে মা-বাবাকে হেনস্তা করা হয় এবং গাড়ি-বাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়।”

ঘটনার খবর পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পূর্ব যাদবপুর থানায় পৌঁছান প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, থানার চত্বরে ঢোকার মুখেই একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় থানা চত্বরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, নিষ্ক্রিয় হয়ে সম্পূর্ণ ‘দর্শকের ভূমিকা’ পালন করেছে পুলিশ।

শাসক-বিরোধী তোপ ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া ঘটনার পেছনে বিজেপির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার পাল্টা দাবি করে বলেন, “এলাকায় কোনো অনুমোদিত সভা ছিল না। বহিরাগতদের এনে অবৈধ জমায়েত করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করলে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। পরিবেশ শান্ত করতে বিজেপি কর্মীরা এগিয়ে গেলে উল্টে তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হয়।”

পুলিশের অবস্থান পুলিশের একটি সূত্রে জানানো হয়েছে, মুকুন্দপুরে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এলাকাটি শান্ত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *