ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় স্বস্তি! ইউপিআই লেনদেনে ১৮% জিএসটি মকুবের পথে কেন্দ্র

আগামী বছর দেশের সাতটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ইউপিআই লেনদেনে কর বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে মোদী সরকার।
ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালু করা এবং তার ওপর অতিরিক্ত ১৮ শতাংশ জিএসটি বসানোর সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বিজেপির মূল ভোটব্যাংক—বাণিজ্যমহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জেন জি (Gen Z) ক্ষোভের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের এই অসন্তোষ সামাল দিতে এবার ইউপিআই মাশুলের উপর ধার্য ১৮% জিএসটি মকুবের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক।
৭ অক্টোবরের জিএসটি বৈঠকে পেশ হতে চলেছে প্রস্তাব জিএসটি সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের একার নয়, বরং জিএসটি কাউন্সিলের। তাই আগামী ৭ অক্টোবর কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে কর ছাড়ের এই প্রস্তাব পেশ করবে অর্থ মন্ত্রক।
কাদের জন্য এই স্বস্তির বার্তা? অর্থ মন্ত্রক চাইছে যে সমস্ত ছোট ব্যবসায়ী সাধারণত জিএসটি ব্যবস্থার আওতায় পড়েন না, তাঁদের এই অতিরিক্ত বোঝা থেকে ছাড় দিতে:
- পণ্য বিক্রেতা: যাঁদের বার্ষিক টার্নওভার ৪০ লক্ষ টাকার নিচে।
- পরিষেবা খাত: যাঁদের বার্ষিক ব্যবসা বছরে ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে।
কেন বিশেষ এই ছাড়ের সিদ্ধান্ত? বড় ব্যবসায়ীরা জিএসটি নিবন্ধিত হওয়ায় কাঁচামাল ও অন্যান্য খরচে ‘ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট’ (ITC) দাবি করতে পারেন, ফলে তাঁদের করের নেট বোঝা কিছুটা হালকা হয়। কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীরা জিএসটি রেজিস্টারভুক্ত না হওয়ায় কোনও ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট পান না। ইউপিআই-এর ১৮% জিএসটি বলবৎ থাকলে সরাসরি তাঁদের পকেটেই টান পড়বে।
বাস্তবায়নের জটিলতা ও সাধারণের খটকা ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI) জানিয়েছে, ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রেই কেবল এই মাশুল প্রযোজ্য হবে, যা মোট ইউপিআই লেনদেনের মাত্র ৪ শতাংশ (অর্থাৎ ৯৬% লেনদেনই করমুক্ত থাকবে)। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—রেস্তোরাঁ, মাসের মুদি বাজার কিংবা ইলেকট্রনিক্স কেনাকাটায় ২ হাজার টাকার গণ্ডি পেরোনো অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। তা ছাড়া, ছোট ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতে পৃথক একটি ট্যাক্স মেকানিজম তৈরি করাও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং।